• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

মাইন উদ্দিন খন্দকারের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আমার কাগজ ডেস্ক / ১৩ শেয়ার
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আইজি প্রিজন মাইন উদ্দিন খন্দকারের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

মাইন উদ্দিন খন্দকারের জন্ম ১৯৫৪ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বাহেরচর গ্রামের সম্ভ্রান্ত খন্দকার বাড়িতে।তার পিতা সিরাজুল হক খন্দকার ছিলেন একজন কৃষক ও মা ফজিলতের নেছা ছিলেন একজন সুগৃহিণী।তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে মাইন উদ্দিন খন্দকার দ্বিতীয়।তার ডাকনাম বাচ্চু।তার জেঠু আফতাব উদ্দিন খন্দকার ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুর হকের কৃষক-প্রজা পার্টির অন্যতম নেতা এবং তার চাচা ফজলুল খোন্দকার ছিলেন দেশবরেণ্য কৃষক নেতা। তাই মাইন উদ্দিন খন্দকার বেড়ে উঠেছেন বাম রাজনীতির অনুকূল আলো-বাতাসে।মাইন উদ্দিন খন্দকার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ১৯৬৪ সালে ভর্তি হন পিরিজকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে।ঐ স্কুলে তিন বছর পড়াশোনা করে রায়পুরা আর.কে.আর.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের এসে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং ১৯৬৯ সালে সেই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন।মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ সংগঠক তার চাচা ফজলুল হক খোন্দকারের পরামর্শে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধের তথ্য আদান-প্রদান ও সংগঠনের কাজ করতেন।তিনি ১৯৭২ সালে রায়পুরা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে অনার্স ভর্তি হন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে সম্মান সহ স্নাতকোত্তর পাশ করে গ্রামে এসে আর.এম.উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন।তিনি ১৯৮০ সালে সিলেট ক্যাডেট কলেজে প্রভাষক(বাংলা)পদে নিয়োগ পান কিন্তু বাম-রাজনীতির সম্পৃক্ততার কারণে ও এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারীদের ষড়যন্ত্রের কারণে চাকুরিতে সমস্যা দেখা দিলে তিনি ১৯৮১ সালে সেই চাকুরি ইস্তফা দিয়ে কিছুদিন ময়মনসিংহে অবস্হিত আবুল মনসুর মেমোরিয়াল কলেজে প্রভাষক(বাংলা) পদে চাকুরি করেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশ করেন এবং ফেনি সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার ভূমি ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের পদে চাকুরি শুরু করেন।এরপর তিনি ১৯৮৪ সালে শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট,১৯৮৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ও ১৯৮৮ সালে কুলিয়ারচর উপজেলার প্রথম শ্রেণির হাকিমের দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৯০ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে সুনামগঞ্জের দিরাই ও ১৯৯২ সালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন।তারপর ১৯৯৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিএমএম কোর্টে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করে ২০০০ সালে ফেনির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পরে কিছুদিন জেলাপ্রশাসক(ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ২০০৩ সালে উপসচিব পদে পদন্নোতি লাভ করেন এবং স্হলবন্দরের পরিচালক পদে চাকুরি করেন।তিনি ২০০৭ সালে যুগ্ম সচিব পদে পদন্নোতি লাভ করে সংস্হাপন মন্ত্রণালয়,শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ২০১১ সালে অতিরিক্ত সচিব পদে পদন্নোতি লাভ করে অতিরিক্ত সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।তিনি কিছুদিন সাহসিকতার সাথে আইজি প্রিজনের দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধাপরাধী কাদির মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হন।অতিরিক্ত সচিব থাকাবস্হায় তিনি সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।এসবের মধ্যে রানাপ্লজা দুর্ঘটনার তদন্তপ্রধান,তাজরিন ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকান্ডের তদন্ত প্রধান অন্যতম। তিনি ২০১৩ সালে চাকুরি থেকে অবসর গেলে সরকার তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগ দেন।তিনি চাকুরির পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশনে নিয়মিত টক’শ ও নানান অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে সারা দেশে একজন জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।সারাজীবন বইয়ের সাথে সঙ্গ দেওয়া মাইন উদ্দিন খন্দকার ছিলেন একজন দেশ সেরা বাগ্মী।বিচিত্র জ্ঞানের অধিকারি মাইন উদ্দিন খন্দকার ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর অনেক দেশ।সংগীতপ্রিয় মাইন উদ্দিন খন্দকার নিজেও গান গাইতেন।বড়শি দিয়ে মাছ ধরা ও পাখি শিকার ছিল তার প্রধান শখ। এক মেয়ে(নুসরাত নাহার শান্তা) ও এক ছেলের(খন্দকার রেজুয়ানুল হক শোভন) জনক মাইন উদ্দিন খন্দকার ছিলেন মুক্তমনা ও আগাগোড়া অসাম্প্রদায়িক এক ব্যক্তিত্ব। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম একজন গৃহিণী।ছোট ভাই মহসিন খোন্দকার কবি ও লেখক,ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক।তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্হ রচনা কালে ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর অকাল প্রয়াত হন।তার মৃত্যু পুরোটাই রহস্যময়।মানুষের হৃদয়ে যুগ-যুগান্তর বেঁচে থাকুক এই জ্ঞানঋদ্ধ সত্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ