• মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১১:১৩ অপরাহ্ন

ভারত-পাকিস্তান মহারণ আজ

স্পোর্টস ডেস্ক: / ২৫ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২

আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ম্যাচের পুরোটা সময়। দয়া দেখিয়ে কেউ নিজের আসন ছেড়ে না দিলে আপনার অবস্থান ‘স্ট্যান্ডিং’। পারবেন তো? আপনি না পারলেও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৪ হাজার দর্শক ঠিকই দাঁড়িয়ে থাকবে। ৯০ হাজার আসন সমৃদ্ধ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের টিকিট বিক্রি শেষ ৫ মিনিটে! বাধ্য হয়ে আয়োজকরা ৪ হাজার স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। শুনলে অবাক হবেন সেই টিকিটের চাহিদাপত্র ১০ হাজার ছাড়িয়েছে!

ম্যাচটা কাদের কোনও ধারণা করতে পারছেন? আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ২৩ অক্টোবর মেলবোর্নে খেলবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান! সেই ম্যাচের ড্রেস রিহার্সেলই বুঝি হয়ে যাবে ‘এশিয়ার বিশ্বকাপে।’ যার শুরুটা হচ্ছে আজ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আয়োজকদের দৃষ্টিতে কাড়ি কাড়ি ডলার। এক ব্যবসাসফল ইভেন্ট। ১৫তম এশিয়া কাপে আয়োজকরা এমনভাবে ফিকশ্চার সাজিয়েছে যেন অন্তত দুইবার এবং সর্বোচ্চ তিনবার ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হতে পারে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মুখোমুখি হবে রোহিত শর্মা ও বাবর আজমরা।

সব ঠিকঠাক থাকলে সুপার ফোরেও দেখা হয়ে যাবে দুই দলের। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলে দুই দল ফাইনালে উঠলে এক ইভেন্টেই তিনবার অনুষ্ঠিত হবে এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। এই দুই দলের ম্যাচ দুই দেশের ১৬০ কোটি জনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দলের লড়াই মানে অন্যরকম এক দ্বৈরথ। বিশ্ব ক্রিকেটও এদিন দুই ভাগ হয়ে যায়। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। মরুর বুকে এবার সেই উত্তাপ ছড়ানোর পালা।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের মুখোমুখি লড়াইটা ছিল একপেশে। যেখানে ভারতকে স্রেফ ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছিল বাবর আজমের দল। সেই হারের বদলা নিতে টগবগ করে ফুটছে রোহিত শর্মার দল। আর পাকিস্তান চিরচেনা কন্ডিশনে আরও একবার বিজেয়র কেতন ওড়ানোর অপেক্ষায়।

অতীতে দুই দলের খেলার আগেই তর্কে জড়িয়ে যেতেন খেলোয়াড়রা। চলতো কথার যুদ্ধ। কিন্তু এখন মাঠে নামার আগেই সাদা পতাকা উড়িয়ে চলেন ক্রিকেটাররা। কোহলি বাবরের পিঠ চাপড়ে কথা বলেন। রোহিত এগিয়ে চোটে পড়া শাহীন শাহ আফ্রিদির খোঁজ নেন। একই মাঠে পাশাপাশি দুই দলের অনুশীলন আগে যা ছিল কল্পনাতীতত, এখন তা বাস্তবে দেখা যায়। তবে ক্রিকেট সমর্থকদের সেদিকে মনোযোগ নেই বললেই চলে। তাদের নজর ওই ২২ গজে।

এশিয়া কাপে ১৪ বার (ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে) মুখোমুখি হয়ে ভারতের জয় ৮ ম্যাচে, পাকিস্তানের ৫। টি-টোয়েন্টিতে দুই দল খেলেছে কেবল এক ম্যাচ। সেটাও ২০১৬ সালে ঢাকায়। ৮৩ রানের ছোট্ট সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় ভারত। ২০১২ সালের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় ভারত পাকিস্তান মুখোমুখি হয় মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এজন্য মুখোমুখি লড়াইও কম হয়েছে দুই দলের। ৯ ম্যাচ খেলে ভারতের জয় ৬টিতে, পাকিস্তানের ২টিতে। ১টি টাই।

শেষ বিশ্বকাপে দুবাইয়ে ভারতকে ১০ উইকেটে হারানো সেই ম্যাচই পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি, ‘আমরা সর্বশেষ ম্যাচে জিতেছিলাম। যেভাবে ভারতকে হারিয়েছিলাম, সেটি ছিল দারুণ। ওই জয় আমাদের বাড়তি প্রেরণা দিচ্ছে। তবে এটা ঠিক, এ ধরনের ম্যাচে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ভারতকে হারিয়েই আমরা এশিয়া কাপ শুরু করতে চাই।’ – বলেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর।

এক বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক রদবদল হয়েছে। বিরাট কোহলি নেতৃত্ব হারিয়েছেন। রোহিত এসেছেন সেই আসনে। বিরাটের মতো কথায় আগ্রাসী নন রোহিত। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চান, ‘সবাই এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে। খুব চাপের ম্যাচ এটি, সন্দেহ নেই। আমরা এই ম্যাচের গুরুত্ব বুঝি, তবে পরিবেশ হালকা রাখতে চাই। বেশি কিছু ভেবে নিজেদের চাপে ফেলতে চাই না।’

ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তান-ভারত লড়াইয়ের ভাগ্য গড়ে দেয় পাকিস্তানের বোলিং, ভারতের ব্যাটিং। দুবাইয়ে আজ কারা হাসবে শেষ হাসি? উত্তরটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েক ঘণ্টা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ