• রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

‘বিস্ময়কর রোবট’ আবিষ্কারের দাবি তিন শিক্ষার্থীর

প্রতিবেদকের নাম / ৩৫ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মিনা নামের ‘বিস্ময়কর রোবট’ আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন। রোবটটি দেখার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ও উৎসুক জনতা প্রতিদিন ভিড় করছে। রোবটটি ওই ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে রাখা আছে।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পলিটেনিক ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসেন সাগর, শান্তনু আচার্য ও ইয়াসির আরাফাত হৃদয় দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় মীনা নামের এই রোবটটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। রোবটটি তৈরিতে আরডুনো মেগা সার্কিট, সার্ভো মোটর, রাজভেরি ফাই, জিএসএম, আই-এ সেন্সর, বেসিক কম্পোনেন্টসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অর্থ ব্যয় হয়েছে বিশ হাজার টাকা। রোবটটিকে যেকোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে সক্ষম।

মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা রোবটটিকে প্রশ্ন করছে বাংলাদেশের জাতীর পিতার নাম কি ? রোবটটি অনায়াসে বলে দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান কোথায়, বঙ্গবন্ধুর জন্ম তারিখ কবে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নাম কি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম কি, বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, ফল ও পাখির নাম কি রোবটটি বলে দিচ্ছে সবকিছুর নাম। রোবটটি আরও বলে দিচ্ছে লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের নাম, ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের বিভাগের সব শিক্ষকের নাম এবং আবিষ্কারকদের নাম। এছাড়া রোবটটি বিভিন্ন ছড়া ও গান গাইতে পারে।

ওই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোবটটি তারা শিশুদের বিনোদনসহ পড়াশোনার সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আবিষ্কার করেছেন। তবে এটিকে বাসা-বাড়ি এবং শপিংমলের নিরাপত্তার কাজেও ব্যবহার করা যাবে। বাসা-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে এলার্ম বাজাবে ও মোবাইল ফোনে কলের মাধ্যমে সর্তক করে দিবে। বর্তমান সরকার প্রযুক্তির বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, আমরা সে বিষয়টি মাথায় রেখে মানুষের উপকারের কথা চিন্তা করে এই রোবটটি তৈরি করেছি।

শান্তনু আচার্য বলেন, রোবটটি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ মহোদয়ের অনুপ্রেরণা ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের সব শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান শরীফ সোবহান, সাবেক বিভাগীয় প্রধান আতিকুর রহমান, ইউসুফ হাসান ও রিয়াজ সালমান স্যার আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তা না হলে আমরা সফল হতে পারতাম না। তবে এখানেই শেষ নয়, এটিকে আধুনিক ও উন্নত করার ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সে আরও বলে, ভবিষ্যতে আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করবো। উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আমাদেরকে সে বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

একজন সাধারণ দর্শনার্থী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের এমন আবিষ্কার আমি আর কখনো দেখিনি। প্রাণহীন একটা বস্তু কীভাবে কথা বলতে পারে, কীভাবে মানুষের উপকারে আসে। রোবটটিকে দেখে আমি অবাক হয়েছি। এটি একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার যার মাধ্যমে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শরীফ সোবহান বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আবিষ্কারে আসলেই আমি বিস্মিত হয়েছি। এই আবিষ্কারের পেছনে আমার বিভাগের সব শিক্ষকদের যথেষ্ট সহযোগিতা ছিল। কোন পক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা রোবটটিকে আরও আধুনিক ও উন্নত করে বাজারজাত করতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি। ছাত্র-ছাত্রীদের এমন উদ্যোগে আমি সবসময় তাদের পাশে থাকবো।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জয়দেব চন্দ্র সাহা বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ও যেকোনো কিছু আবিষ্কারের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি, এই রোবট আবিষ্কার তারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। জনবান্ধব যেকোনো কিছু আবিষ্কারে আমি ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থাকবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ