• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১৮ অপরাহ্ন

বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট, ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

আমার কাগজ প্রতিবেদকঃ / ৩১ শেয়ার
প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

যাত্রীদের বিদেশযাত্রা ও আগমনকে আরও আরামদায়ক করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে ২৫শ ট্রলি যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

আজ রোববার (১২ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। সাম্প্রতিক ট্রলি সংকটের ঘটনায় যাত্রীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি।

এর আগে তিনি বিমানবন্দরের দুই টার্মিনাল ঘুরে ব্যবস্থাপনা দেখেন। যাত্রীদের সাথে ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কয়েকটি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি ট্রলি সংকটের জন্য অনেক যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এজন্য যাত্রীদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমরা আপনাদের অবগত করতে চাই যে, বিমানবন্দরে এতদিন মোট ২ হাজার ট্রলি ছিল। এর মধ্যে এক হাজার ট্রলি অচল হয়ে যায়। কোভিডকালীন সময়ের কারণে সবগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা প্রতিদিন ট্রলি মেরামত করছি। বর্তমানে সচল ট্রলির সংখ্যা মোট ১৪০০। ৪-৫ দিনের মধ্যে আরও ৫০০ ট্রলি সচল হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ দিনে বিমানবন্দরে প্রচুর সংখ্যক যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। এছাড়াও আপনারা জানেন প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীযাত্রী করোনা টেস্টের জন্য বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় যাচ্ছেন। সেখানে ৩-৪ ঘণ্টা করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করেন। তারা ট্রলিগুলো সাথে নিয়ে যাওয়ায় টার্মিনাল ভবনগুলোতে ট্রলি সংকট দেখা যায়।

তিনি বলেন, যাত্রীদের ট্রলির সংকট সমাধানে আমরা ৩২ জন কর্মীকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা ইউনিফর্মে থাকবে। তারা যাত্রীদের প্রয়োজনে তাদের কাছে ট্রলি পৌঁছে দেবে। শিগগিরই এই কাজের জন্য আরও ৫০ জন নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিমানবন্দর কর্মীদের হুশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ট্রলি নিয়ে যদি সংকট তৈরি করা হয়, যদি সংকটের পেছনে কারও গাফলতি পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

এদিকে যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে দীর্ঘসময় লেগে যাওয়া এবং ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়ে কথা বলেছি। আমি বলেছি যাতে কোন কাউন্টার ফাঁকা না থাকে। ২৪ ঘণ্টা যাতে কাউন্টার সচল থাকে। যাত্রীরা যাতে অল্প সময়ে ইমিগ্রেশন করে গন্তব্যে যেতে পারেন। একই বিষয়ে আমি ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিআইজি এবং এএসপির সাথে কথা বলেছি। এছাড়াও যাত্রীরা যাতে দেশে ফিরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাগেজ পায় সেবিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে বেবিচক ও বিমানবন্দরগুলোতে যাতে কোনো পদ শূন্য না থাকে, কোনো পদে যাতে অনুপস্থিতি না থাকে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। প্রতিটি পদে লোক দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আমরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও লোক নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিক যাত্রীদের করোনা টেস্ট নিয়ে বিমানবন্দরে ভোগান্তি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশে যাত্রীদের বিমানবন্দরে ৬ ঘণ্টা আগে টেস্ট করতে হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে করতে যাত্রীদের অনেক সময় লেগে যায়। তাই আমার অনুরোধ আপনারা ফ্লাইট শুরুর অন্তত ৮ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসুন। হেলথ ডেস্ক ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কাজ সেরে নির্বিঘ্নে করোনা টেস্ট করান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালন) এয়ার কমোডর সাদেকুর রহমান চৌধুরী, সদস্য (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (নিরাপত্তা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফী ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ