• সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

বিধ্বস্ত পৃথিবী : মানিক চন্দ্র দে

মানিক চন্দ্র দেঃ / ১৪৭ শেয়ার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

লেলিহান হিংসার শিখা জ্বালিয়ে
ওরাও হিংস্র দাঁত বিদ্ধ করেছিল, ঝরিয়েছিল রক্তপাত,
দুর্বল প্রাণীর নরম কোমল শরীরে।
মানুষের চেয়ে অনেক অনেক বড় ছিল ওরা,
ছিল আসুরিক শক্তির দুপাটি ধারালো দাঁত।

আমি প্রাগৈতিহাসিক যুগের কথা বলছি –
তেলাপোকাও নাকি ছিল তাদেরই সমবয়সী।
তবে ওদের পেটে ছিল না কোন হিংসা,
বড় মায়াময় তেলতেলে শরীর নিয়ে নিরবে নিভৃতে
আজও তাই বেঁচে আছে , রক্ত মাংসের বিবাদ এড়িয়ে।

পাথরের অস্ত্র দিয়ে শুরু করে ইস্পাতের তরবারি, অশ্বের খুরে ধূলো উড়িয়ে
রক্তের সাগর সাঁতরে, বাঈজির ঘুঙুর ভেঙে এখন সব মারাত্মক মারণাস্ত্র দিয়ে
প্রেমিকের লোমশ বুক থেকে হিংস্র নখের থাবায়
ছিনিয়ে নিয়ে নরম কোমল প্রেয়সীর শরীরের
রক্তে পেয়ালা ভরে করেছে ওরা চুমুকে চুমুকে পান।

তবুও তো মেটেনি তৃষ্ণা, তবুও নিভেনি জিঘাংসার টকটকে লাল আগুন।
উল্লাসের আনন্দের কত রঙ মুছে গেছে আজ
পৃথিবী থেকে, কত বাতি নিভে গিয়ে নিঃশেষ হয়েছে ধূপের পবিত্র ঘ্রাণ!
ধ্বংস হয়েছে কত নগর- সভ্যতা, কত চিন্তা!
আঘাতে আঘাতে বিধ্বস্ত পৃথিবী আজ
যেন শতছেঁড়া পাল, বড় বিবর্ণ হয়ে গেছে।
রক্ত ঝরছে এর গা থেকে পূব থেকে পশ্চিমে,
উত্তর থেকে দক্ষিণে সব খান দিয়ে।

তবে কি এ পৃথিবী পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন কোন গ্রহে হবে স্রষ্টার সৃষ্টি আবার?
দয়াময় স্রষ্টার বাস তো সকল সুন্দরের শীতল সুবাসের ভেতর।
অসুরের পছন্দ হানাহানি, উষ্ণ তামসিক অন্ধকার,
সভ্যতার আলোকিত নগরে নিত্য আসা যাওয়া স্রষ্টার।
নিয়ত নতুন নতুন শুভ বার্তা বয়ে
আলো নিয়ে আয়ু দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি সৃষ্টিকে।
সবচেয়ে সুন্দর প্রাণীকূল শ্রেষ্ঠ করে মানুষ নামে
সৃষ্টি করেছিলেন স্রষ্টা, বড় গর্ব করে ।

তারা সাফল্যের শীর্ষে উঠে অহঙ্কারের উন্মত্ততায়
বেমালুম ভুলে গেছে –
যিনি সৃষ্টি করেন ধ্বংসও যে করতে পারেন অবলীলায়।
যেমন করেছেন তার আগের – তারও আগের
সব অহংকারী প্রাণীদের , গ্রহদের এক মূহুর্তের ফুঁৎকারে বহুবার।

যারা ছিল মানুষের চেয়েও অনেক শক্তিধর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ