মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএসের সাতজন নতুন চিকিৎসক একসঙ্গে যোগদান করায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
গত বুধবার সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে নবাগত চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে এক সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন।
সদ্য যোগদান করা চিকিৎসকরা হলেন— ডা. মো. আলবি হাসান, ডা. লাবিবা আলম খান, ডা. তাজকিয়া আশরাফি, ডা. মো. ফয়সাল মিয়া, ডা. আমিনুল হক, ডা. নিগার জাহান ও ডা. ব্রততী সাহা। তাঁদের যোগদানের ফলে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন বলেন, নতুন সাতজন চিকিৎসক যোগদান করায় দীর্ঘদিনের সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। আরও কয়েকজন কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন চিকিৎসকদের আগমনে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও মানসম্মত হবে। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের পাশাপাশি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবায়ও উন্নতি আসবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাক, সে লক্ষ্যেই সবাইকে নিয়ে কাজ করছি।”
উল্লেখ্য, সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। চিকিৎসকসংকটের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। জরুরি চিকিৎসা, মা ও শিশু সেবা ও বিশেষায়িত পরামর্শে তৈরি হয়েছিল দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি।
নতুন সাতজন চিকিৎসকের যোগদানের মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই কাটবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সত্যিকার অর্থেই সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের নির্ভরতার কেন্দ্র হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
