• রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১১:২২ অপরাহ্ন

‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ এবং ‘দারিদ্র্য দূরীকরণঃ কিছু চিন্তা ভাবনা’ গ্রন্থদ্বয়ের প্রাসঙ্গিকতা-বিশ্লেষণ

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ / ৪৪ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমসাময়িক অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার চেয়ে অনন্য এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি এরই মধ্যে সেই যোগ্যতার স্বাক্ষরও রেখেছেন যথেষ্টই। কারণ বিশ্বের অন্য কোনো দেশ পরিচালনার চেয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা করা অনেক কষ্টসাধ্য এবং বলা যায় এক ধরনের অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কাজ। বিশেষ করে উন্নত দেশের সঙ্গে তো কোনো তুলনাই চলে না। সে সব দেশে উন্নত পদ্ধতি এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে। নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা, না আছে বিরোধিতার নামে বিরোধিতা। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ একুশ বছর পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর সাহসী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। দুর্বার গতিতে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
‘বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ এবং ‘দারিদ্র্য দূরীকরণঃ কিছু চিন্তা ভাবনা’ বইয়ের ফ্ল্যাপ এর উদ্ধৃতাংশ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অদম্য সাহস, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং দূরদর্শী চিন্তা ভাবনার যে প্রতিফলন ঘটেছে তার উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ নিম্নে উপস্থাপিত হলো-“একজন আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতীক হিসেবে তিনি আজ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের আন্দোলনেও অঙ্গীকারাবদ্ধ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুক হত্যা করে দেশে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়। রাজনীতিতে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন জনগণের কাছে এক নতুন আশা আকাঙ্খা জন্ম দেয়। তিনি নিজেই বলেছেন, বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমার রাজনীতি”।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নানা ধরনের চিন্তার ফসল ‘দারিদ্র্য দূরীকরণঃ কিছু চিন্তা ভাবনা’ নামক এ গ্রন্থ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ের অনেক চিন্তাই তার মনে উঁকি ঝুকি মেরে থাকে। জনজীবনে যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা তা উদ্বিগ্ন করে তোলে। নৈতিকতাবোধ লুপ্ত হয়ে গেছে। মূল্যবোধ চলে গেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ আর লোভ গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, কর্তব্যবোধ, সহানভ‚তি দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। এমনই পরিস্থিতি যখন সারা দেশে বিরাজ করছে তখনই এক সমুদ্র ভালোবাসা নিয়ে গণমানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে এদেশের অধিকাংশ মানুষ এ দেশে অভাবের তাড়নায় তারা বিপদগামী হয়ে ওঠে কখনো কখনো। কেননা তাদের সামনে কোন কাঙ্খিত ভবিষ্যত থাকে না। কোন স্বপ্ন থাকে না। যদিও এসব গণমানুষকে বার বার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, সোনালী ভবিষ্যতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বার বার তারা আশাহত হয়েছে। তাদের আশাহত বুকে, তাদের ভাঙ্গা মনে নতুন করে আশা আর প্রাণের সঞ্চার জাগাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামে নিজের জীবন যৌবন উৎসর্গ করেছেন। তেমনি অন্তরের তাগিদে কলম হাতে তুলে নিয়েছেন। গ্রন্থভুক্ত লেখাগুলোতে সত্যিকারের দেশপ্রেম ফুটে ওঠেছে। তার রাজনৈতিক আদর্শ প্রস্ফুটিত হয়েছে। অসহায় নিপীড়িত বঞ্চিত গণমানুষের জন্য তিনি সবকিছু ত্যাগ করে নিরলস প্রচেষ্টায় নিয়োজিত।
‘বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ শীর্ষক আর্টিকেল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্ধৃতাংশ নিম্নরূপ-‘‘তিনি নেই। কিন্তু আমিতো আছি। যে দেশের জন্য, যে জাতির জন্যে চুয়ান্ন বছরের জীবনে পঁচিশটি বছর তিনি অন্ধকার কারাগারের উঁচু প্রাচীরের সীমানার মধ্যে ফাঁসির রজ্জুকে যিনি উন্নত মস্তকে ধারণ করতে গিয়েছেন বহুবার, শুধু এ জাতির জন্য! এই দেশের মানুষের জন্য! সেই মহান মানুষের ভালোবাসার জাতি আর মানুষই আমার কাছে তার বড় আমানত। আর সে আমানতকে শিরোধার্য করে আমি জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত থাকতে চায় সোচ্চার, এদেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তাদের স্বার্থের প্রশ্নে’’। উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে আমার অভিমত এই যে, বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের চাওয়া পাওয়াকে আজকে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য সুবিবেচনা ও আন্তরিকতার সাথে দেখবেন। আমরা আশা করছি সে চাওয়া পাওয়া কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। গরীব ও প্রান্তিক মানুষেরা কখনোই তার কাছ থেকে প্রত্যাখাত হবে না।

‘দারিদ্র্য দূরীকরণঃ কিছু চিন্তা ভাবনা’ আর্টিকেল থেকে উদ্ধৃতাংশ নিম্নরূপ- “রাষ্ট্র যন্ত্রকে ক্রমেই আরো শক্তিশালী এবং সমাজের বুকের উপর রাষ্ট্রযন্ত্রের চেপে বসা বোঝাকে ক্রমেই আরো দুর্বহ করে তোলা হচ্ছে। যদি আত্মশক্তিতে নিজেদের যা করণীয় এবং নিজেদের যা সামর্থ্যরে ভেতরে, তাই সম্পূর্ণ করতে আমরা সক্ষম না হই তাহলে জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়াবার কোন সম্ভাবনাই একদিন আমাদের থাকবে না। রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবার এই মানসিকতা বজায় থাকলে দারিদ্র্য দূরীকরণের মত একটি প্রধান জাতীয় সমস্যার সমাধান কখনোই হবে না। খাদ্য, বাসস্থান, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, সুষ্ঠু সংষ্কৃতি চর্চার বিকাশ চর্চা ও সবকিছুর অর্জনে প্রথমেই সমাজকেই নিজস্ব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনীর শক্তির পরিচয় রাখতে হবে। তাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এলে খুবই ভালো। না এলেও আত্মশক্তিতে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষে দেশ নিয়ে যারা ভাবেন। সে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও ব্যক্তি বর্গের প্রতি আমার আবেদন, ‘সমাজের কাজ সমাজেরই করা দরকার’ এ ঐতিহ্যগত ভাবনাকে আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডে আসুন আমরা ফিরিয়ে আনি। এতে করে এদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণই শুধু ত্বরান্বিত হবে না, রাষ্ট্র ও সমাজের গণতন্ত্রায়ন ও গভীরতর তাৎপর্য লাভ করতে সক্ষম হবে”।
উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন আত্মশক্তি ও আত্ম মর্যাদার এক মূর্ত প্রতীক। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আত্ম শক্তিতে বলীয়ান হলে যেকোন অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অভূতপূর্ব পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে আমাদের আত্মশক্তি জাগরণের এক নজির বিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
‘শিক্ষিত জনশক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়নে পূর্বশর্ত’ নামের আর্টিকেল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতাংশ নিম্নরূপ-” আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সাম্প্রতিক চীন সফরকালে আমি সাংহায়, কোয়ানশোচো ও শেনজেন নগরের কর্মকর্তাদের সাথে এসব বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আমি অবাক হলাম ঐ সব নগরীর প্রায় ষাট ভাগ ছাত্র-ছাত্রী নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার পর পরই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পথ বেছে নেয়। সম্মানীত বিশেষজ্ঞদের নিকট আমার আবেদন, আপনারা ভেবে দেখুন, কিভাবে আমরাও বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ ও উৎপাদনমুখী জনশক্তিতে পরিণত করতে পারি। গড্ডালিকা প্রবাহের মত ডিগ্রির জন্য ব্যাকুল ও করুণ প্রয়াস আমাদের তরুণ সমাজকে অভিশপ্ত বেকারত্বের দিকে ধাবিত করছে। এ অশুভ চক্রের ঘুরপাক থেকে তাদের উদ্ধার করতে হবে। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী যাতে তাদের নিজস্ব স্বাভাবিক মেধা-মনন, ক্ষমতা ও প্রবণতা অনুযায়ী পেশা বেছে নিতে পারে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের চাপে গতানুগতিক শিক্ষা শুধু বেকারের সংখ্যায় বৃদ্ধি করছে। অর্জিত শিক্ষাকে কখনোই স্বার্থ সিদ্ধি বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নয়, সমাজ ও জাতির কল্যাণের স্বার্থে আমরা বিনিয়োগ করতে চায়। দেশের উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডের সঙ্গে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করায় আমাদের লক্ষ্য। আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে আমরা উল্লেখ করেছি-সকলের জন্য স্বাস্থ্য, সকলের জন্য শিক্ষা ও সকলের জন্য বাসস্থান ইত্যাদি কর্মসূচিগুলোর আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্য, দরিদ্রদের জন্য শিক্ষা, দরিদ্রদের জন্য বাসস্থান ইত্যাদি লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে”।
উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে জনগণের অভিমত এই যে, বর্ণিত কার্যক্রমগুলিতে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থাকা সত্তে¡ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গির জন্য এ সমস্ত প্রকল্পের অনেক ক্ষেত্রে ধ্বস নেমে আসে। অধিকন্তু কিছু অসৎ ও দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাও স্থানীয়ভাবে এ নোংরা কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। এহেন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের শাস্তিগ্রহণ আজ সময়ের দাবী।
‘শিক্ষিত জনশক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়নে পূর্বশর্ত’ নামের আর্টিকেল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতাংশ নিম্নরূপ-“নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য আমরা আমাদের সংগঠনের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সহায়তায় কার্যক্রম অচিরেই শুরু করবো। অবশ্য আমাদের নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে স্ব স্ব এলাকার স্কুল কলেজে যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছে। যেকোন জেলায়, থানা বা গ্রামে গেলে আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়। তবে এ উদ্যোগ আরো ব্যাপক করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীদের কাজে লাগাবো। ডিগ্রি ও মাষ্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছাত্রদের হাতে সময় থাকে সে সময়টা তাদেরকে নিজ নিজ গ্রাম অথবা তাদের পছন্দমত এলাকায় পাঠিয়ে দিতে হবে। যে সমস্ত থানায় কলেজ আছে সে সমস্ত এলাকার কলেজের প্রিন্সিপাল অথবা এলাকার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে একটা কমিটি করা যেতে পারে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। একজন ছাত্র কম করে হলেও পাঁচজন নিরক্ষর মানুষকে অক্ষর জ্ঞান দান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এ সমস্ত কার্যক্রমের ভাল ফলাফল প্রদানকারীদের পুরস্কার দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকবে। এই কার্যক্রম সফল করার জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার, স্থানীয় প্রশাসন যদি সহযোগিতা না করে তাহলে সফল হওয়া কঠিন”।

উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে এ অভিমত পোষণ করা যায় যে, স্থানীয় এমপি ও কর্মীদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতায় এক্ষেত্রে সফলতা সম্ভব। অধিকন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও মনিটরিংয়ে আয়বর্ধক প্রকল্পে উদ্যেক্তা সৃষ্টি কার্যক্রমগুলি উন্নয়নের বহুমুখী মাত্রিকতা লাভ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ প্রসঙ্গে লিখিত আর্টিকেল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতাংশ নিম্নরূপ-“প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেও বলেছিলেন ভোটার লিষ্ট ত্রুটিপূর্ণ, অথচ সেই ভোটার লিষ্ট ত্রুটিমুক্ত করবার কোন ব্যবস্থায়ই তিনি গ্রহণ করেননি। কারণ ঔ লিষ্ট ছিল মূলত আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রউফ সাহেব কেন ব্যবস্থা নেননি। তার পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ কি কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার সহায়ক হবে? দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও কালো টাকার উৎসগুলিকে টিকিয়ে রাখার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত করা হচ্ছে না। এই ব্যাধি এই সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আর সে কারণেই আমরা আগামী তিনটি নির্বাচন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই চেয়েছি, যাতে করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত্র ক্রটি রয়েছে। তা সংস্কার ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে পারি”।
উপরের উদ্ধৃতাংশের আলোকে আমার অভিমত এই যে, এ অবস্থা থেকে জনগণ পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য জনগণ আগ্রহী। নতুন নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক সংস্কার ও ত্রুটি মুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পক্ষপাতমূলক আচরণে গণতন্ত্রের ভিত ক্রমশ দুর্বল ও নড়বড়ে হয়ে পরবে।
পরিশেষে বলতে পারি- যে অর্থে গ্রন্থ সমালোচনা ও পর্যালোচনা করতে হয় সেটার বিচারে উক্ত লেখাটির কোন বিশেষ অবস্থান নাও থাকতে পারে। আমি শুধুমাত্র গ্রন্থের রচয়িতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে সাহস, যে শিক্ষা, চিন্তা ও চেতনার বীজ বপন করেছেন-তার মহিমাকেই তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি। এ গ্রন্থ দুটি জাতির দিক নির্দেশনা ও রাষ্ট্র দর্শনের মত ভূমিকা পালন করবে যুগে যুগে। তার আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা কখনোই ম্লান হবার নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য এ গ্রন্থদ্বয় সাহস ও চেতনার খোরাক হিসেবে কাজ করবে। সর্বোপরি এ গ্রন্থ উন্নয়ন ও পরিবর্তনে অর্থনীতির যোগান ও চাহিদার মত বিশেষ নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক:- সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, কলামিস্ট ও গবেষক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ