• শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

বর্ণনামূলক প্রতিবেদন: তথ্য সেবার অ্যাপসগুলো মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে

প্রতিবেদকের নাম / ৭৭ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

সাহিদা সাম্য লীনা
তথ্য নিয়ে মানুষের টেনশন আগে থেকে কমেছে। তথ্য পেতে এখন নিজেরাই ঘরে বসে চেষ্টা চালায়। গুগল সার্চ করে। ওয়েবসাইটে ঢুকে। বিভিন্ন সাইটের সহযোগিতা নিয়ে একটা ধারণা নেয়। আগে মানুষ এইসব জানতো না। সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন বিশেষ করে- প্রযুক্তির বহুল প্রচারে সবাইএখন নিজেকে ঋদ্ধ করতে পারছে। এখন নারীরাও আগের তুলনায় অনেক জানছে। মোবাইল দিয়ে নানা এপস ব্যবহার তারা খুব সহজে আত্মস্থ করে ফেলেছে। কেউ এখন তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে হয়রানি কম হচ্ছে। খুব সহজে বিষয় নিয়ে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে সরকারি দফতর থেকে তথ্য দাতারা তাদের আকাঙ্খিত বিষয়ে বলার সাথে সাথে তথ্য দিতে পারছেন। কিছুটা সমস্যা থাকলেও তা অচিরেই দূর হবে আশা করা যায়। মোটা কথা, তথ্য সেবারপ্রক্রিয়াগুলো বা এপস মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে।
২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই জনবান্ধব অর্থাৎ জনগণের সুবিধায় আইনটি প্রণয়ন করেন। যা ২০০৯ সালে সংসদে পাশ হয়।
তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে বলেছেন, ‘মানুষ ধীরে ধীরে তাদের তথ্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে এবং তারা এখন এই আইনের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইছে।’
গ্রামেও মানুষ এগিয়েছে আগের তুলনায়। যে কোন সহযোগিতা পেতে তারা ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি গিয়ে নিজের সমস্যা নিয়ে সহজে বলে, তার জানা আইন সম্পর্কে, অধিকার নিয়ে মতামত পেশ করাতে অবাধ প্রসার ঘটেছে সর্বত্র।
অসহায়নারীরা সেবা পাচ্ছেন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ। নিয়মিত উঠান বৈঠক হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। এতে করে সবাই সব কিছু নিয়ে উপলব্দি করতে পারছেন।
জেলা তথ্য অফিস ফেনীর আয়োজনে উন্নত রাষ্ট্র ও জাতিগঠনে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, সাফল্য, অর্জন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০ টি বিশেষ উদ্যোগ এবং চলমান সামাজিক সমস্যা যথা যৌতুক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, মাদক, জঙ্গীবাদ, গুজব প্রভৃতি মোকাবেলায় করনীয় শীর্ষক মহিলা সমাবেশ ফেনী ছাগলনাইয়া উপজেলাসহ বাকি পাঁচ উপজেলায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ছাগলনাইয়ায় রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় একটি বৈঠক।
মহিলা সমাবেশে বক্তারা সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় করনীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। ছাগলনাইয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাঁর দপ্তর কর্তৃক নারীদের উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন সরকার নারীদের আয়বর্ধক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা তথ্য অফিসার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনবান্ধব ১০ টি বিশেষ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন বিগত ১৩ বছরে দেশের অভ‚তপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো সকল ক্ষেত্রেই দেশের অগ্রগতি চোখে লাগার মতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল। তবে এই উন্নয়ন বৃথা যাবে যদি যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারি।
এছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য মেলার আয়োজন করে ফেনী তথ্য অফিস। সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্লাটফর্মের মতো ‘তারা যাতে মনে কথা সবার সামনে বলার সুযোগ পায় এজন্য এই মেলার আয়োজন’ যা শিশুদের জন্য মানসিক সেবার আওতায় পড়ে।
গ্রামীণ মানুষের দোঁরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর জন্য সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র।
সরকারী এক সুত্রে জানা গেছে গত ২০০৭ সালে পাইলট আকারে দেশের ২টি ইউনিয়ন পরিষদে কমিউনিটি ই-সেন্টার (সিইসি) স্থাপন করা হয়। এরপর এ দু’টি সিইসি’র অভিজ্ঞতার আলোকে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের ৩০টি ইউনিয়নে সিইসি স্থাপন করে। ২০০৯ সালে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) স্থাপিত করা হয়।
১৩ এপ্রিল ২০১৮সালে দেশের কেন্দ্রীয় তথ্য সেবা ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রোগ্রাম কর্তৃক ‘তথ্য ও সেবা সব সময়’ এই ¯েøাগানে জাতীয় তথ্য ও সেবাকেন্দ্র ৩৩৩ চালু করা হয়েছে।
এটুআই জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহকে ডিজিটাল সার্ভিসের মধ্যে ৩৩৩ বহুল ব্যবহৃত একটা সেবা। যা এখন সবাই ব্যবহার করতে জানছে। এ হেল্পলাইনের মাধ্যমে দেশের সকল সরকারি দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকগণ পেতে চেষ্টা করেন।
২০২০ এর মার্চে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এটুআই-এর উদ্যোগে লকডাউন পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তিতে বেশ উপকারে আসে ৩৩৩। এই হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে টোলমুক্ত নতুন নতুন উপসেবাও যুক্ত করা হয়। যেমন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ, হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়মাবলী, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য এবং সরকার ঘোষিত লকডাউনকালে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ঘরে রাখার জন্য শিক্ষা, ই-কমার্স, কর্মহীন দরিদ্র নাগরিকদের জন্য ত্রাণ সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য, স্বাস্থ্য পরিচর্যা উল্লেখযোগ্য। জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে এ পর্যন্ত ২৮ মিলিয়নের অধিক কলের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রায় ৫ মিলিয়ন করোনা সম্পর্কিত সেবা প্রদান করা হয়েছে।
বহুত সাড়া মিলেছে যে সেবাটি তা হলো ৯৯৯। জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কলকরে জরুরি মুহ‚র্তে যেমন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায়, এটি রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে বা বাসাবাড়িতে যে কোথাও সমূহ বিপদে ফ্রিতে কল করে তাৎক্ষনিক সেবা পাচ্ছেন। ঠিক তেমনই ৩৩৩ নম্বরে কল করলে একাধিক সরকারি সেবা ও তথ্য সম্পর্কে জানা যায়।
জাতীয় তথ্য বাতায়নের সকল ওয়েবসাইটের তথ্য যেকোনো মোবাইল বা টেলিফোন থেকে ৩৩৩ নম্বরে ডায়াল করে হেল্পলাইনের মাধ্যমে পাওয়া যায়। যেমন- একজন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক কোনো সহায়তা বা অভিযোগের প্রয়োজনে সরাসরি কল দিতে পারেন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহীকে।
হাতের মুঠোয় সকল সরকারি সেবা পেতে ‘ ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদান, এক ঠিকানায় সব সমাধান’ স্লোগান নিয়ে সরকার ‘আমার সরকার বা মাই গভ’ মোবাইল অ্যাপটি তৈরি করেছে।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, ফেনীর আঁচল, ইমেল: lina6228@gmail.com, ০১৮১৮০৬৮৫৩৫।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ