• রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:০০ অপরাহ্ন

প্রত্যেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব

প্রতিবেদকের নাম / ৫০ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০২২

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা

আমার কাগজ প্রতিবেদক
রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ এখন বহির্বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নকে আরো টেকসই ও গতিশীল রাখতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন জরুরি। এ জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। কেননা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরেই সংঘটিত অনিয়ম ও অপরাধ কর্মের তথ্য পেয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয়।


দৈনিক আমার কাগজ পত্রিকার ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়। ‘আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) কাজী জিয়া উদ্দিন। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন।
আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) শ্যামসুন্দর সিকদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, টিভি টুডে’র প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজে সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান এবং ফেনী থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেন। সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূইয়া রানা।


জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বাংলাদেশকে একটি জনঘনত্ব দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে এতো বেশি সংখ্যক মানুষ বাস করে যে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় অতীতের তুলনায় এখন অপরাধের মাত্রা কমে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলেই দেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ পরিচিতি পেয়েছে। এতো উন্নয়ন কখনও সম্ভব হতো না, যদি দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভালো না থাকতো।
এ প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের অবদানের কথা তুলে ধরে আরো বলেন, সাংবাদিক-পুলিশ-আমলা-রাজনীতিবিদ কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়। এটি বিবেচনায় রেখে স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব।


বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার বলেন, সাংবাদিককে বায়াসড (পক্ষপাতিত্ব) হওয়া ঠিক নয় বলে যে ধারণা-সেটি সঠিক নয়। সাংবাদিককে বায়াসড হতে হবে এবং তা সত্যনিষ্ঠের প্রতি। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থ বিবেচনা করে সসব সময় সত্য বলাও ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার সকলকে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা বা সংবাদপত্র এবং প্রমাসন বা পুলিশ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সুসম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক যোগাযোগ সুদৃঢ় থাকলে উভয় পক্ষ উপকৃত হতে পারে।


মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমের সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাঠ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারি। যাতে আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়।
সাংবাদিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে টিভি টুডে’র প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, উভয়ের পেশাগত ও দায়িত্বের মিল রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবর্তিত অবস্থায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা এই আইনের বিরোধিতা করি না। তবে এর অপপ্রয়োগ এবং জামিন অযোগ্য ধারা কিছু ধারার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। তিনি সাংবাদিক সম্পর্কে নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, মফস্বলের একজন সাংবাদিক হয়তো ডিসি-এসপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সামান্য কিছু সুবিধা নেয়। আর আমরা ঢাকার সাংবাদিকরা নিজের পরিচয়কে ব্যবহার করে প্লট-ফ্ল্যাট, বিদেশ সফরসহ নানাবিধ সুবিধা পেয়ে থাকি। তাহলে কে বড় ক্রিমিনাল?


জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, সোস্যাল মিডিয়ার কারণে গণমাধ্যম এখন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে গণমাধ্যমের যে ভূমিকা রয়েছে- আজকের আয়োজন তার প্রমাণ।
বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক সাংবাদিক এবং পুলিশের মধ্যে সম্পর্কের সীমারেকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অপরাধ সংক্রান্ত সাংবাদিকতা এখন আর আগের মতো নেই। অতিরিক্ত সখ্যতার কারণে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


বিএফইউজে সভাপতি এম. আবদুল্লাহ বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরো দৃঢ় হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান সাংবাদিকতার দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন, নতুন নতুন আইন করে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।
মূল প্রবন্ধে ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন বলেন, মানুষ নিজেই তার নিরাপত্তা বিঘিœ হওয়ার জন্য দায়ী এবং সকল অপরাধের বীজ মানুষ নিজেই বপণ করে। তিনি বলেন, ধর্ম্ন্ধতা, জঙ্গিবাদ, কুসংস্কার,অশিক্ষা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করে একটি যুক্তিবাদী, আধুনিক, মানবিক ও উদারনৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকেই দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।


পরে অতিথিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূইয়া রানা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ