• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:৫১ অপরাহ্ন

পানাহার আয়োজনে কেউ সতর্ক করেনি: বরিস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ / ৫২ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পানাহার আয়োজন নিয়ে জল আরও ঘোলা হচ্ছে। এ আয়োজন করা হলে করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে আরোপিত বিধিনিষেধ ভঙ্গ হবে—তাঁকে দেওয়া এমন সতর্কবার্তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নর্থ লন্ডনের একটি হাসপাতালে বরিস জনসন বলেছেন, ‘করোনার বিধিনিষেধ সম্পর্কে আমাকের কেউ সতর্ক করেননি। কেউ সতর্ক করলে আমার এটা মনে থাকত।’

তবে বরিসের সাবেক উপদেষ্টা ডোমিনিক কামিংস ভিন্ন কথা বলেছেন। কামিংস বলেছেন, বরিস জনসনকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। বরং উল্টো অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, বরিস আইনপ্রণেতাদের এ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছেন।

বরিস জনসনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি আইনপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করে থাকলে পদত্যাগ করবেন কি না। এ প্রশ্নের জবাবে বরিস বলেন, দেখা যাক, তদন্ত প্রতিবেদনে কী আসে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে, ডাউনিং স্ট্রিটে, পানাহারের আয়োজন করেছিলেন বরিস জনসন। ২০২০ সালের ২০ মে এ আয়োজন করা হয়। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে আয়োজিত যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের ওই আসরে বরিস জনসন ও তাঁর স্ত্রী ক্যারি সিমন্ডস উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যে এমন আয়োজন আইনত নিষিদ্ধ ছিল। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বরিস। আর এ তদন্ত করছেন সু গ্রে। এ প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিবিসির পলিটিক্যাল এডিটর লরা কুয়েন্সবার্গ বলেন, ২০১৯ সালে যাঁরা প্রথমবারের মতো আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের একটি দল প্রধানমন্ত্রী বরিসের পানাহারের আয়োজনে আইনভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাঁদের একটি দল আজ বুধবার ‘১৯২২ কমিটির’ কাছে চিঠি দেবে বরিসের বিরুদ্ধে আস্থা ভোট আয়োজনের বিষয়ে। তিনি আরও বলেন, এটি এখনো পরিষ্কার নয়, কতজন আইনপ্রণেতা এ চিঠি দেবেন। কিন্তু এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেছেন, এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বরিস জনসন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তাঁর দল কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতারাই চটেছেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাউনিং স্ট্রিটে আরও পানাহারের আয়োজনের খবর। ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ও ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্যের আগের সন্ধ্যায় এমন পানাহারের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্যও বরিস ক্ষমা চেয়েছেন।

এরপর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছেন বরিস। তিনি বলেন, ‘এসব আয়োজনের কারণে যে ধারণা জন্মেছে, সে জন্য আমি আবারও ক্ষমা চাইতে পারি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও দেশের জনগণের কাছে। এর পুরো দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।’

কিন্তু এই ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি শেষ হচ্ছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ, এ নিয়ে একটি ব্লগ লিখেছেন ডোমিনিক কামিংস। এই ব্লগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালের ২০ মে পানাহারের আয়োজনের বিষয়ে বরিসকে সতর্ক করলে তিনি তা এড়িয়ে যান। কামিংসের এই সতর্কবার্তার বিষয় ডাউনিং স্ট্রিটের আরও দুই সাবেক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, বরিসকে সেদিন সতর্ক করেছিলেন কামিংস।

এদিকে দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, বরিস জনসন খুব ভালো করে জানেন, তিনি ঠেকে গেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী; দেশের আইন প্রণয়ন করেন। কাউকে তাঁর বলে দেওয়ার দরকার নেই যে এই পানাহারের আয়োজন করলে বিধিনিষেধ ভঙ্গ হবে। অ্যাঞ্জেলা আরও বলেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রতি যদি বরিস জনসনের শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তবে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন এবং পদত্যাগ করবেন।

এ প্রসঙ্গে আরেক বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের নেতা স্যার অ্যাডওয়ার্ড ড্যাভে বলেন, ‘ফাঁপা অজুহাত’ ও ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে প্রধানমন্ত্রী শুধু নিজের অবস্থান খারাপ করছেন।

আইনপ্রণেতা ও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা কার্স্টেন অসওয়াল্ড বলেন, এটা পরিষ্কার যে প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে পানাহারের আয়োজন নিয়ে সত্য কথা বলছেন না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ