• রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে ২৮ কোটি টাকার ব্রিজ

প্রতিবেদকের নাম / ৬০ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চরচরিয়া-শিবনগর ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি অংশ দেবে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ব্রিজটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএমবি-আইটি (জেভি)-এর সাথে ২৭ কোটি ৯৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৪ টাকায় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজ সমাপ্তির মেয়াদ ধরা হয় ২০১৯ সালের ১১ মে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ফলে মেয়াদ বেড়েছে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত আর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজের চরচরিয়া অংশের দ্বিতীয় স্প্যানটি দেবে গেছে। এর কারণে স্প্যানের উপরের অংশের ব্রিজ নিচু হয়ে গেছে। মালামাল নিয়ে মাঝারী বা বড় ধরনের ট্রাক চলাচলে ওই স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া ব্রিজটি নির্মাণেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে একাধিক কোম্পানির রড ব্যবহৃত হয়েছে। সব রডে এখনই মরিচা চলে এসেছে। এতে ব্রিজটির স্থায়িত্ব তাড়াতাড়িই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়ার ১৪ নাম্বার মাগুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিমল কৃঞ্চ সানা বলেন, ‘স্প্যান দেবে ব্রিজের একটি অংশ নিচু হয়ে গেছে। এছাড়া কাজের মানও সন্তোষজনক না। রডে এখনই মরিচা চলে এসেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র ও এলজিইডিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি অন্যভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলী প্রলয় কুমার সরকার স্প্যান দেবে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘পিসি গার্ডার ঢালাই দেয়ার সময় ওই স্থানটি নিচু হয়ে গেছে। ওখানে ঢালাই দিয়ে উঁচু ও বাকী কাজ শেষ হলে নিচুর পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে।’

উপকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কোম্পানির রড এখানে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। তবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে এএসবিআরএম কোম্পানির রড। এছাড়া অন্যান্য উপকরণের মান ভালো।’

খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কোনো স্প্যান দেবে যায়নি। ডিজাইনে ওই স্থান নিচু ধরা আছে। এছাড়া উপকরণ সামগ্রীর মানও ভালো।’

খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ডিজাইনে স্থানটিতে নিচু ধরা আছে। অন্যদিকে উপকরণ সামগ্রীর মানও খারাপ না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ