• রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০১:০০ অপরাহ্ন

নিজস্ব মুদ্রা ও পণ্যের বিনিময়ে বাণিজ্য করতে চায় ডি-৮ সিসিআই

আমার কাগজ ডেস্ক: / ৯ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২

মহামারি করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল বৈশ্বিক মন্দা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন ও পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বাণিজ্য (বার্টার ট্রেড) চালুর কথা ভাবছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল আটটি দেশের বাণিজ্যিক সংগঠনের জোট ডি-৮ সিসিআই।

মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও হোটেলের ওয়েসিস হলে দুই দিনব্যাপী ডি-৮ সিসিআই বিজনেস ফোরাম অ্যান্ড এক্সপো ২০২২, এর প্রথম দিনে বক্তারা একথা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ডি-৮ ভুক্ত দেশসমূহের মধ্যকার ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশনে সক্ষম একটি কৌশলগত রোডম্যাপ গঠন এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি বিস্তারেও বিশেষ জোর দেন।

কোভিড-১৯ মহামারির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে সাড়া প্রদানের অংশ হিসেবে, কৃষি খাত, উত্পাদন খাত, টারশিয়ারি ও কোয়াটার্নারি খাতজুড়ে ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশনের ক্ষেত্রে পিটিএ অনুমোদন ও সম্পৃকতার জন্য ডি-৮ সিসিআই একটি কৌশলগত রোডম্যাপ গঠনে কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে ডি-৮ সিসিআই এর প্রস্তাবনাগুলো হলো-

১. স্থির মূল্যের নিশ্চয়তা প্রদানপূর্বক সাপ্লাই চেইনে অস্থিরতা কমিয়ে আনা এবং নিরাপদ জীবিকা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদে ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশন

২. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দুর্বলতা মোকাবিলার জন্য ক্রস কারেন্সি সোয়াপ, বার্টার এবং ব্লকচেইনের মতো বিকল্প বাণিজ্য অর্থ ও বাণিজ্য সুবিধা প্রদান প্রক্রিয়া।

৩. নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার চিহ্নিত করতে প্রক্রিয়া স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন এবং সমন্বয়।

৪. বৃহত্তর পরিসরে আন্তঃডি-৮ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অবদানের সুযোগ তৈরিতে ডি-৮ প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে উদ্যোক্তাদের জন্য ডি-৮ ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ।

৫. দীর্ঘমেয়াদী ডি-৮ ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশনে সহায়তার লক্ষ্যে ডি-৮ কম্প্রিহেনসিভ ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (ডি৮ সিইসিএ)-এর জন্য কন্টিনজেন্সি ম্যাপিং, গ্লোবাল স্টাগফ্লেশনে ভূমিকা রাখা ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনা।

৬. অর্থনৈতিক খাতের সাইবার সিকিউরিটি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি’তে প্রযুক্তির ব্যবহার।

৭. টেকসই, সার্কুলার ইকোনোমি, শি-ট্রেডস, এমএসএমই, স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম, ইনোভেশন, গ্রিন টেকনোলজি, ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং ব্লু ইকোনমিকে ভ্যালু চেইন ইন্টিগ্রেশন বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা।

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য রোডম্যাপ ও এর কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিতীয় দিন ডি-৮ মিনিস্ট্রিয়াল পর্যায়ে তা উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।

আটটি মুসলিম দেশ তথা বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হলো ডি-৮।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে দেশগুলোর চেম্বারস অব কমার্সের সভাপতি, প্রতিনিধি দল, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডি-৮ মিনিস্ট্রিয়াল-এর চেয়ারম্যান এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ডি-৮-এর সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার এই যুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে আগামী পারস্পরিক শক্তি বাড়ানো, একই সঙ্গে ব্যবসায় ও সম্পর্ক উন্নয়নের। আগামী ১০ বছরে আরও এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারের অধিক আন্তঃবাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ আছে আমাদের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এই সম্মেলনে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। বর্তমানে সারা বিশ্ব জুড়ে অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করছে। সে সময়ে এই সম্মেলনটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি ডি-৮ এর সদস্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্মেলনে ৮ সদস্য দেশের পক্ষ থেকে ৪০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপো জোন-এ ‘বিল্ড ইন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন-এ বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের স্টল ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ