• মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭

প্রতিবেদকের নাম / ২৩ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ৭ মে, ২০২২

নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই ভাইবোন রয়েছে। এর আগে ছয়জন নিহতের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আরও ২০ জন।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার গাজী অটো রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে, নাটোর সদর হাসপাতালে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়ার রুহুল আমিনের স্ত্রী মোহনা আক্তার মিলি (২৬), নাটোর সদর উপজেলার পাইকোরদলের সাজাহান আলীর ছেলে কাউছার (১৮) ও মেয়ে সাদিয়া (১২), টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার বেঙ্গুনিয়ার ভানু প্রামাণিকের ছেলে জলিল (২৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জের মশিউর রহমান (২৫), মাগুরার মিজানুর রহমান (৩০) এবং নাটোর সদর উপজেলার পাইকোরদলের মুক্তার হোসেনের ছেলে এ আলমগীর (৪৭)।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুন্সী শাহাবুদ্দিনসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে জেলা প্রশাসক নিহতদের দাফনে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুন্সী শাহাবুদ্দিন, বাস যাত্রী এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতি সম্পন্ন ন্যাশনাল ট্রাভেলস বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বনপাড়া পৌরসভার গাজী অটো রাইস মিলের সামনে এলে নাটোর থেকে ঢাকাগামী সিয়াম ট্রাভেলসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হয়। এ সময় আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আরো একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে, নাটোর সদর হাসপাতালে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ও হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুন্সী শাহাবুদ্দিন জানান, ঘটনা তদন্ত করে দোষী চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতি এবং ওভারটেক করার চেষ্টার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি দুই কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ