আমার কাগজ ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর গণহত্যা চলছে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির কয়েক সপ্তাহের মাথায় দেশটিতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানে আঘাত হানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সোকোতো রাজ্যে ওই অভিযান চালানো হয়। এতে আইএসের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আগেই ‘সন্ত্রাসীদের’ সতর্ক করেছিলেন যে, খ্রিস্টান হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হলে কঠোর মূল্য দিতে হবে। এবার সেটাই হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যেখানে রাতের অন্ধকারে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো একটি যুদ্ধজাহাজের ডেক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে দেখা যায়। এর আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। নিহত সন্ত্রাসীদেরও। খ্রিস্টান হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলে সংখ্যা (সন্ত্রাসী নিহতের) আরো বাড়বে।’
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল মুসলিম ও দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান অধ্যুষিত। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে জিহাদি সহিংসতায় জর্জরিত। সেখানে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারাম নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।
একই সময়ে উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় একটি অপরাধী চক্র। যারা স্থানীয়ভাবে ডাকাত বা ব্যান্ডিট নামে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী গ্রামে গ্রামে হামলা চালিয়ে হত্যা ও অপহরণ করছে। গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, নাইজেরিয়া যদি খ্রিস্টানদের হত্যাকাণ্ড না থামায় তাহলে তাদের সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গত অক্টোবর ও নভেম্বরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। নানামুখী সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেখানে ‘গণহত্যা’ চালানো হচ্ছে। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘আফ্রিকার দেশটিতে খ্রিস্টানদের ওপর কোনো কাঠামোগত হামলা হলে সেটির জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।’
শুক্রবারের হামলাটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক পদক্ষেপ। এটিকে কেউ কেউ স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এতে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়তে পারে। তবে নাইজেরিয়ার সরকার ও স্বাধীন বিশ্লেষকেরা সহিংসতাকে ধর্মীয় নিপীড়নের কাঠামোতে ব্যাখ্যা করার দাবি নাকচ করেছেন।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষভাবে উদ্বেগজনক দেশ’ এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি নাইজেরিয়ানদের মার্কিন ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপ করেছে নিষেধাজ্ঞা।
