• বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ন

দুর্নীতির দায়ে ওয়াসার প্রকৌশলী চাকরিচ্যুত

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২২ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২২

কোনো ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে নিজেই ৪০ লাখ টাকার কাজ করার চেষ্টা এবং অন্যান্য দুর্নীতির দায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম কুমার ঘোষকে চাকরিচ্যুত করেছে ঢাকা ওয়াসা।

গত মঙ্গলবার ঢাকা ওয়াসার এক অফিস আদেশে এই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়, যা জানা গেছে রবিবার।

অসিম কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মডস জোন-৮ এর আওতাধীন প্রায় ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ঠিকাদারদের থেকে অর্থ নিয়ে নিজেই ঠিকাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল পরিশোধের চেষ্টা করেছেন এই কর্মকর্তা।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম কুমার ঘোষ আরও বেশ কিছু অনিয়ম ও দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত। নিজের পদ বলে বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ব্যবহৃত বিল রেজিস্টারে অসৎ উদ্দেশ্যে কয়েকটি ক্রমিক অর্থাৎ কার্যাদেশ নম্বর বাদ দিয়ে এন্ট্রি করতে সংশ্লিষ্ট ইউডিএকে জোরপূর্বক বাধ্য করেন এই কর্মকর্তা। বসুন্ধরা পাম্প হাউজ-১ ও ২ এর মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার কাজে মাত্র দুই থেকে তিন ট্রাক বালি ফেলে কাজ শেষ দেখান। উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দিয়ে সম্পূর্ণ বিল মেজারমেন্ট বুকে লিপিবদ্ধ করান। একইভাবে বসুন্ধরা পাম্প হাউজ ৩ ও ৪ এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সম্পূর্ণ বিল উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে দিয়ে মেজারমেন্ট বুকে লিপিবদ্ধ করান। সরজমিনে দেখা যায় ওই কাজ অসম্পূর্ণ।

অসিম কুমার ঘোষ ২০১৭ সালের ২২ জুন থেকে ওই বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে ওয়াসার থেকে আগে থেকে কোনো অনুমতিই নেননি। এমনকি তিনি এই সময়ে অফিসে উপস্থিত না থেকেও পরে অফিসে এসে পেছনের তারিখ উল্লেখ করে কাগজে স্বাক্ষর করেন ঠিকাদারকে টাকা দেওয়ার জন্য।

অফিস আদেশে ওয়াসা উল্লেখ করেছে, তার আচরণ ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃ নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী প্রবিধানমালা, ২০১০ এর ৩৮ (ক), (খ), (চ) ও (ছ) প্রবিধিমতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, তহবিল তসরূপ বা প্রতারণা ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কার্যে লিপ্ত বিধায় উক্ত প্রবিধানমালার ৩৯ প্রবিধিমতে আওতাভুক্ত অপরাধ।

এতে আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই বিভাগীয় মামলা নং-০৬/২০১৭ রুজু করা হয়। তিনি বিভাগীয় মামলার জবাব দাখিল করেন। দাখিলকৃত জবাবে ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা প্রকাশ করায় তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। তার দাখিলকৃত জবাব ও শুনানিকালে তার দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় বিভাগীয় মামলাটির তদন্তকার্য করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃ নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী প্রবিধানমালা, ২০১০ এর ৩৮ (ক), (খ), (চ) ও (ছ) প্রবিধিমতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, তহবিল তসরূপ বা প্রতারণা ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাকে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা ওয়াসা দুর্নীতি ও অনিয়মের পরিপন্থী একটি সংস্থা। এখানে দুর্নীতিবাজদের কোনো জায়গা নেই।

ওয়াসা পরিচালক বলেন, ‘নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত রাখতে ওয়াসাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা জরুরি। এ বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জায়গা ঢাকা ওয়াসায় নেই। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধ বিবেচনায় চাকরিচ্যুতও করা হবে।’

বরখাস্ত অসিম কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ সবই মিথ্যা। আমাকে ঢাকা ওয়াসা নিজের পক্ষে শুনানি করার সুযোগ দিলেও কোনো কথা শুনেনি। সবারই আইনি অধিকার আছে। তাই আমি হাইকোর্টে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে রিট করবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ