• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

দুই বছর পর ‘কুমারী পূজা’

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২০ শেয়ার
প্রকাশিত : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আজ তৃতীয় দিন— মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা। এ উপলক্ষে সোমবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল দর্শনার্থী-পুণ্যার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে ভিড় ছিল দেখার মতো। কারণ মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজার পাশাপাশি আজ যে কুমারী পূজা।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ ‘কুমারী পূজা’ আয়োজন করা হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় উদযাপন করা হচ্ছে এই পূজা। দেশের কিছু জায়গায় অল্প পরিসরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহাষ্টমীর দিন আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে এ পূজা শুরু হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। এবার কুমারী পূজায় ছিল ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়।

এবারের কুমারীর নাম দেবপ্রিয়া চক্রবর্তী শ্রেষ্ঠা। তার বয়স ছয় বছর। কুমারী পূজা চলাকালে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছে সে। বলেছে, ‘সকলকে আশীর্বাদ’।

জানা গেছে, রামকৃষ্ণ মিশনে বেলা ১১টায় কুমারী পূজা শুরু হয়। দেবীদুর্গাকে সম্মান জানাতেই অষ্টমীতে আয়োজন করা হয় কুমারী পূজার। কুমারী পূজার ১৬টি উপকরণ দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতার সূত্রপাত। এর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল হবে।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথা মতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

পুরাণ মতে, দুর্গাদেবী কুমারী রূপেই আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবতাদের সামনে। সেই রীতি বহন করেই মহাষ্টমীর সকালে কুমারী পূজার আয়োজন। মহাষ্টমীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কুমারী পূজা। যেখানে একজন কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। এরপর কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এসময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শেষ হয়। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে শুরু হবে সন্ধিপূজা, শেষ হবে ৪টা ৫৩ মিনিটে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নীরূপে বা সহকারিণীরূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই আজকের এই মহাষ্টমী তিথিতে আমরা জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই। তার মাধ্যমে আদ্যাশক্তিকে আমাদের প্রণাম নিবেদন করি।

রাজধানী ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশনের নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর ও ফরিদপুরসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপেও আজ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ