• বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

টিকায় মেয়ের মৃত্যু, বিল গেটসের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ১৮ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে মেয়ের। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেই ক্ষতিপূরণ হিসাবে এক হাজার কোটি টাকা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ এক বাবা।

ধনকুবের বিল গেটস এবং সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছেন দিলীপ লুনওয়াত নামের এক ব্যক্তি।

এমনকি ক্ষতিপূরণ হিসাবে এক হাজার কোটি রুপিও দাবি করেন তিনি। অবশেষে ২৬ আগস্ট এই মামলায় উত্তর চেয়ে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই) এবং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কাছে নোটিশ পাঠাল বম্বে হাইকোর্ট। ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

শনিবার প্রকাশিত ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ ও এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিলীপ লুনাওয়াত নামে মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদের এক বাসিন্দা এসআইআই এবং বিল গেটসের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই মামলা করেন। দিলীপের দাবি, কোভিশিল্ড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই মারা গেছেন তার মেয়ে।

দিলীপের করা পিটিশনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই) প্রধান ড. ভিজি সোমানি এবং এইমস ডিরেক্টর ড. রণদীপ গুলেরিয়ারের নামও রয়েছে। দিলীপের আরও দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়ে যে টিকাগুলো নিরাপদ। কিন্তু তার পরেও তার মেয়ে মারা গেছেন।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে চোখ রাঙাতে শুরু করে করোনাভাইরাস। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে গোটা দুনিয়ায় কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ১০০ মিলিয়ন ডোজ পৌঁছে দিতে বিল গেটসের সঙ্গে হাত মেলান সেরাম ইনস্টিটিউট প্রধান আদার পুনাওয়ালা।

কিন্তু দিলীপবাবুর অভিযোগ, এই কোভিশিল্ডের ডোজ নিয়েই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় তার মেয়ের শরীরে। আর তার জেরেই মৃত্যু হয় তার। তাই মেয়ের প্রাণহানির জন্য গেটস ও পুনাওয়ালকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের আবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডিসিজিআই ভি জি সোমানি, ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল এবং এই মসের ডিরেক্টর ড. রণদীপ গুলেরিয়ার নামও উলে­খ করেছেন ওই মামলাকারী।

আওরঙ্গাবাদের বাসিন্দা দিলীপবাবু উচ্চ আদালতকে জানান, তার মেয়ে øেহাল লুনওয়াত পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ধামনগাঁওয়ের এসএমবিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে শিক্ষকতা করতেন, লেকচারার ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারত সরকার চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বপ্রথম ভ্যাকসিন নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করে। তাই তার মেয়ে যে ইনস্টিটিউটে পড়াতেন সেখানের সব স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা নিতে বলা হয়। তার মেয়েকেও তখন ভ্যাকসিন নিতে বলা হয়, এজন্য তার মেয়েও টিকা নিতে বাধ্য হন। এই টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু তারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রাণ হারাতে হয় তার মেয়েকে বলে দাবি দিলীপ। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ তার মেয়ে টিকা নেন। তার পর থেকেই তীব্র মাথাব্যথা, বমি শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়েকে। সেখানেই মৃত্যু হয় øেহালের। চিকিৎসক সনদ দিয়েছেন, মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

দিলীপের দাবি, ১ মার্চ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়। ২ অক্টোবর ২০২২, করোনা ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই øেহালের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকারপত্র দেয় কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাডভার্স ইভেন্টর ফলোয়িং ইমুনাইজেশন কমিটি (এইএফআই)। আদালতে সেই স্বীকারপত্রও পেশ করেন দিলীপ।

তার মেয়েসহ যাদের টিকা দিয়ে ‘খুন’ করা হয়েছে তাদের ন্যায়বিচারের জন্যই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও দিলীপ জানিয়েছেন। মামলাকারী দিলীপ লুনওয়াতের কথায়, মেয়ের জীবন চলে গেছে।

কিন্তু যারা এভাবে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, তাদের সুবিচার চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। গেটস ও সেরামের কাছে এক হাজার কোটি টাকা জরিমানাও দাবি করেছেন তিনি।

২০২০ সালে, ভারতসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে টিকাকরণ বাড়াতে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল এসআইআই। যৌথভাবে ১০ কোটি টিকা তৈরি এবং সরবরাহ করতেই এই দুই সংস্থা হাত মেলায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ