• রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫১ অপরাহ্ন

চীন-তাইওয়ান কার কতটুকু সামরিক শক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ৩২ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

চীনের প্রচণ্ড আপত্তি ও বাধা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে এসেছেন। ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

পেলোসি তাইওয়ান সফরের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর থেকেই বেইজিং এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এমনকি, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরও হুমকি রয়েছে। তার এ সফরের প্রতিক্রিয়ায় চীনের ২০টির বেশি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে।

সামরিক শক্তির বিবেচনায় চীনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে তাইওয়ান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, চীন কোনোদিন তাইওয়ানে সশস্ত্র হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় তাইওয়ানে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চীন ও তাইওয়ান কার সামরিক শক্তি কেমন এ নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।

আর্মড ফোর্সেস ডট ইউ এর তথ্যসূত্র অনুসারে, চীনের সামরিক বাজেট ২৫২ বিলিয়ন ডলার ও তাইওয়ানের ১৩ বিলিয়ন ডলার। চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৭ শতাংশ খরচ হয় সামরিক খাতে। তাইওয়ানের ক্ষেত্রে এটি ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

চীনের জনসংখ্যা ১৩৯ কোটি ৮০ লাখ। তাইওয়ানের জনসংখ্যা মাত্র দুই কোটি ৩৬ লাখ। জনসংখ্যার বিচারে চীন ও তাইওয়ানের কোনো তুলনাই চলে না।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার, ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী, সামরিক খাতে চীন বিপুল খরচ করে। খুব কম দেশই এতটা খরচ করে বা করতে পারে। চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট হলো ২৩ হাজার কোটি ডলার। সেই তুলনায় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট এক হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।

চীনের সক্রিয় সেনার সংখ্যা ২০ লাখ। আর তাইওয়ানের এক লাখ ৭০ হাজার মাত্র। ফলে সেনাসংখ্যার হিসাবেও চীন ও তাইওয়ানের কোনো তুলনা চলে না।

চীনের কাছে আছে পাঁচ হাজার ২৫০টি ট্যাঙ্ক। আর তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১১০টি। ফলে তুলনা অসম।

চীনের কাছে তিন হাজার ২৮৫টি যুদ্ধবিমান আছে। তাইওয়ানের কাছে আছে মাত্র ৭৪১টি। তবে তাইওয়ানের কাছে এফ ১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে। চীনের নৌবহর ৭৭৭টি। তাইওয়ানের মাত্র ১৭৭টি।

ট্রেন্ডস ইন ওয়ার্ল্ড মিলিটারি এক্সপেন্ডিচার ২০২১ অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি খরচ করে আমেরিকা, ৮০ হাজার কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন। তারা ২৯ হাজার কোটি ডলার খরচ করে। তাইওয়ান সেখানে খরচ করে এক হাজার তিনশ কোটি ডলার। তবে তারা সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের থেকে বেশি অর্থ খরচ করে।

যদি এরকম পরিস্থিতি আসে, বাধ্য হয়ে কাউকে সমর্থন করতে হচ্ছে, তাহলে কাকে সমর্থন করবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলো? দ্য স্টেট অফ সাউথইস্ট এশিয়া ২০২২ জানাচ্ছে, লাও, কম্বোডিয়া ও ব্রুনেই নিশ্চিতভাবে চীনের দিকে যাবে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন্স, মিয়ানমারের অ্যামেরিকার দিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

সূত্র: ডয়চে ভেলে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ