• শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

চালের বাজারেও জোরদার অভিযানে নামছে সরকার

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২২ শেয়ার
প্রকাশিত : সোমবার, ৩০ মে, ২০২২

হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। বছরের এ সময়ে যেখানে দাম কমতির দিকে থাকে, সেখানে এবারের চিত্র উল্টো। সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩-৬ টাকা বেড়েছে। আর ৫০ কেজির বস্তায় ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা-পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিকরা যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে চাল বাজারে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সরকারের কঠোর তদারকির দাবি জানান তারা।

এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চাল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুত করলে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভোজ্যতেলের পর এবার চালের বাজারেও জোরদার অভিযানে নামছে সরকার।

অভিযোগ আছে, মিলাররা ধান-চাল মজুত রাখছেন। একইভাবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও মেমোরেন্ডাম অ্যাসোসিয়েশনের নীতি অনুমোদনের বাইরে গিয়ে ধান-চালের ব্যবসায় নেমেছেন। তারা প্যাকেটজাত আকারে সেগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এতে চালের ক্রয়ক্ষমতা ভোক্তার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্দেশনা এলো।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘চালের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে চাল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত জোরদার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যেসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান মেমোরেন্ডাম অ্যাসোসিয়েশনের বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে চালের ব্যবসায় নেমেছে কিংবা খোলা বাজার থেকে ধান কিনছে তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

ব্রিফিংয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে বাণিজ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যসচিব, খাদ্যসচিব ও কৃষিসচিবকে একসঙ্গে বসে করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার যেভাবে ড্রাইভ দিয়েছে, ঠিক একই রকমভাবে চালের বাজারে সেই জোরদার ড্রাইভ দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো কেবিনেটে আলোচনার বিষয় ছিল চাল এবং তেল। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হয় যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সার্ভে করে কার কাছে কী পরিমাণ ধান এবং চাল মজুত রয়েছে এবং মজুত-সীমা কতটা লঙ্ঘন করা হয়েছে সেটি পর্যালোচনা করে দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। অবৈধভাবে চাল মজুতকারীদের ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, ঈদের দু-এক দিন আগে থেকেই চালের দাম বাড়তে থাকে। ঈদের পর থেকে আরও বাড়ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর মিল গেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে অটোরাইচ মিলে ভাঙানো মিনিকেট চাল ৬৪ টাকা কেজি, সাধারণ মিনিকেট ৬৩ টাকা, অটোরাইচ মিলে ভাঙানো কাজললতা চাল ৫৬ টাকা, অটোরাইচ মিলে ভাঙানো বাসমতি চাল ৭৬ টাকা, সাধারণ বাসমতি চাল ৭৫ টাকা, অটোরাইচ মিলে ভাঙানো কাটারিভোগ চাল ৭২ টাকা, নাজির শাইল চাল ৭৮ টাকা ও অটোরাইচ মিলে ভাঙানো পাইজাম চাল ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ মে অটোরাইচ মিলে ভাঙানো মিনিকেট চাল ছিল ৬৩ টাকা, সাধারণ মিনিকেট চাল ৬০ টাকা, অটোরাইচ মিলের কাজললতা ৫৬, কাজললতা সাধারণ ৫২, অটোরাইচ মিলের বাসমতি ৭৫ টাকা, বাসমতি সাধারণ ৭২ টাকা, কাটারিভোগ অটোরাইচ মিল ৭২, নাজির শাইল ৭৮ ও পাইজাম ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ