মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (গণতান্ত্রিক) ও ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ পৃথক পৃথক ভাবে শোভাযাত্রা মিছিল বের করে।
মঙ্গলবার (৫ই আগষ্ট) সকালে শহরের চেঙ্গি স্কয়ার মোগে এসে মুখোমুখি হয়। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি বিনিময় ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসময় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (গণতান্ত্রিক) শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার থেকে শোভাযাত্রাটি পূণরায় শুরু করে সূর্য শিখা ক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করে। এতে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কলিন চাকমা বক্তব্য রাখেন।
ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, শান্তিপুর্ন মিছিলে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ হামলা করেছে। তবে কোনো গুলি বিনিময় হয়নি বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুল বাতেন মৃদা বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে গুলি বিনিময়ের ঘটনার সত্যতা পাওযা গেছে । এখনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা তাদের মিছিলে পাল্টা হামলা করেছে বলে দাবি করে বলেন এ হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশে ঠ্যাঙাড়েদের হামলা, সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত এক বৃদ্ধা নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ইউপিডিএফের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদদপুষ্ট ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৫ই আগস্ট ২০২৫) ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দিবস(জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস) উপলক্ষে “অবিলম্বে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে” ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে মিছিল নিয়ে চেঙ্গী স্কয়ারে গেলে সেখানে ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা সমাবেশে আগত লোকজনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আহতদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলতি দিয়ে আক্রমণ চালায়, পরে গুলি ছোঁড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তারা তাদের সামনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে সকাল থেকে ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদরের জিরো মাইল ও ভাইবোনছড়ার দেওয়ান পাড়ায় সমাবেশে আগত লোকজনকে বাধা দেয় এবং লোকজন বহনকারি গাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
এর আগে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশে আসার পথে লোকজনকে পথে পথে বাধা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দিবসে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদদপুষ্ট ঠ্যাঙাড়ে কর্তৃক সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট ২০২৫), সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতন দিবসে “অবিলম্বে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে” খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে ইউপিডিএফের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। আজ সকালে উপজেলা পরিষদ পরিষদের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে চেঙ্গী স্কোয়ারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তাদের নির্বিচারে ছোঁড়া গুলিতে পূর্ণমুখী চাকমা(৫৩) স্বামী-মৃত শরবিন্দু চাকমা আহত হন। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদরের পেরাছড়ায়। হামলার সময় ঘটনাস্থলের পাশে থাকা পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও আজ সকালে দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ি থেকে সমাবেশে আসার সময় পথে পথে ঠ্যাঙাড়েরা বাধা দেয় এবং লোকজনকে বহনকারী গাড়ি আটকিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
অংগ্য মারমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর আগে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলেও পাহাড়-সমতলে এখনো ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। আজকে ইউপিডিএফের মিছিলে হামলা তারই জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তিনি অবিলম্বে হামলাকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্হপ্তিতে জানানো হয়।
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশে হামলা-চার সংগঠনের নিন্দা ও প্রতিবাদ:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদদপুষ্ট ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্তৃক সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চার সংগঠন।
মঙ্গলবার (৫ই আগস্ট ২০২৫), সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস(ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দিবস) উপলক্ষে “অবিলম্বে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি মেনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে”খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে মঙ্গলবার ইউপিডিএফের নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থল চেঙ্গী স্কোয়ারে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকা ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তারা সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে পূর্ণমুখী চাকমা(৫৩), স্বামী- মৃত শরবিন্দু চাকমা নামে এক নারী আহত হন। তার বাড়ি পেরাছড়া এলাকায়। ঘটনাস্থলের পাশে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
অপরদিকে, আজ সকালে দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ি থেকে সমাবেশে আসার সময় পথে পথে সন্ত্রাসীরা বাধা দেয় এবং লোকজনকে বহনকারী গাড়ি আটকে দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরের এই দিনে শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলেও পাহাড় এখনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বহাল রয়েছে। এখনো সেনা-প্রশাসনের মদদে ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমনে তৎপর রয়েছে। আজকের পুলিশের সামনে সমাবেশে হামলা তারই দৃষ্টান্ত। এ হামলার দায় ইউনূস সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
