• সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:০২ অপরাহ্ন

খলিলুল্লাহ আজাদের দেড় ডজন একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন

প্রতিবেদকের নাম / ৮১ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১
খলিলুল্লাহ আজাদ

দিনাজপুরে ব্যবসায়ীকে হয়রানি অভিযোগের অন্তরালে-৩

 

বিশেষ প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খলিলুল্লাহ আজাদ ওরফে খাইরুল আজাদ মিল্টন (৪৫) নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার সচল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য নেই। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় অন্তত দেড় ডজন হিসাব (একাউন্ট) খোলার তথ্য মিলেছে। রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে, এসব একাউন্টের মধ্যে বেশ কয়েকটি খোলা হয়েছে গত বছর কয়েক মাসের ব্যবধানে। সেসব হিসাবে লেনদেনও হয়েছে কোটি কোটি টাকা। প্রতারণা আর তদ্বিরবাজি করেই এ বিপুল অংকের অর্থ আয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা হয়। মামলা নং-৩৮। অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি দিনাজপুরের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গত ২১ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়নে আহূত সংবাদ সম্মেলনে খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এ মামলাটিকেও অসত্য বলে দাবি করেছিলেন। তবে তার এ দাবি নাকচ করে মামলার বাদী উপ-পুলিশ পরিদর্শক রোকনুজ্জামান ওই সময় গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্তে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পরবর্তীতে খলিলুল্লাহ আজাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা যখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটে চিঠি লিখি, ওখান থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের প্রকৃতি এবং আমাদের অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে যে ধরনের তথ্য উপাত্ত পেয়েছি তার ভিত্তিতেই এজাহার দায়ের করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য এবং মামলার নথি পর্যালোচনায় খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের অপকর্মের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে, খলিলুল্লাহ আজাদ একজন ভদ্রবেশী প্রতারক হিসেবে কোতোয়ালী ও খানসামা থানা এলাকায় একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। টেন্ডারবাজি, বালু ও জলমহাল দখলকারী, ভ‚মিখোকো, সুদের কারবারসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল চক্রের সদস্যরা। পরবর্তীতে ধুরন্ধর খলিলুল্লাহ আজাদ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা ও যোগাযোগ গড়ে তুলে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়েছেন। হাট-বাজার ইজারা কিংবা সরকারি চাকুরি পাইয়ে দেয়ার নামে বহু নিরীহ লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার ধূর্ততার প্রমাণ মিলে একটি ব্যাংকের শাখায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক একাউন্ট খোলার ঘটনায়।
নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খলিলুল্লাহ আজাদ (এনআইডি নম্বর-৬৮৮৯০৭০৬৪২) গত বছরের ১৪ জানুয়ারি দিনাজপুর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক শাখায় ৫৩৫৩১০০১২৬৩১ হিসাব খোলেন। একদিন পর অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি একই ব্যাংকে ৫৩৫৩১০০১২৬৫৩ ও ৫৩৫৩১০০১২৬৬৪ নম্বরে দুইটি হিসাব খোলেন।

এর আগে ২৬ জুলাই একই শাখায় ৫৩৮৩৪০০০০৫৭২ নম্বরে এবং ১০ আগস্ট ০৫৩১৩৬০০০০৪৫৮ নম্বরে হিসাব খোলেন। অন্যদিকে ‘মেসার্স সরদার হাসকিং মিলস’ এর নামে গত বছরের ২৭ আগস্ট ৫৩৪২৪০০০০০৩২ দিনাজপুর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক শাখায় এবং ১৮ অক্টোবর একই ব্যাংকের লিলির মোড় শাখায় ০৫৩৩০৫০০৩৯৮৬৫ নম্বরের হিসাব খোলেন। চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, অধিকাংশ একাউন্টে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হলেও সিআইডির তদন্তকালে সেগুলোর কয়েকটির হিসাব শূন্য ছিল। অর্থাৎ টাকা উত্তোলন করে আগেই পাচার হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে খলিলুল্লাহ আজাদ নিজেকে আওয়ামী ঘরানার হিসেবে দাবি করেন। অথচ তার হাতেই নিগৃহীত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী পরিবার। এমনকি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে খলিলুল্লাহ আজাদ গ্রেফতার হবার আগে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা জিডি ছিল না দাবি করলেও নিগ্রহের ঘটনা সেটির অসত্য প্রমাণ করে। গত বছরের ২৩ মে কোতোয়ালী থানার জিডি নম্বর ১০০২। অভিযোগকারী তানিম বিন শরীফ জানান, তার পিতা মৃত শরিফুল আহসান লাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। জীবদ্দশায় শরিফুল আহসান লাল দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তানিম বিন শরীফের মা ষাটোর্ধ তারিকুর বেগম লাবুন দুই দশকের বেশি সময় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন দায়িত্ব পালন করেন। তারিকুর বেগম এক যুগের মতো দিনাজপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ছাড়াও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের গোটা পরিবারই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। অথচ সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের লাঞ্ছনা করেছিলেন খলিলুল্লাহ আজাদ। অপরাধের শিরোমণি হয়েও তিনি কিভাবে ঢাকায় এসে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার সাহস পান-তা অনুসন্ধানে মিলেছে বিচিত্র তথ্য। এ নিয়ে সবিস্তার থাকবে পরবর্তী সংখ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ