• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১১ অপরাহ্ন

ইভ্যালির ভবিষ্যৎ কী?

আমার কাগজ প্রতিবেদকঃ / ৪১ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তারের পর বন্ধ করা হয়েছে এর কার্যালয়। রাসেল দম্পতিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিনিয়োগের টাকা ফেরত পেতে আন্দোলনের জন্য সংগঠিত হচ্ছেন গ্রাহকেরা। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কী সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

শনিবার ফেসবুক ভেরিফায়েড পেইজে এক ঘোষণায় ইভ্যালি বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার থেকে ইভ্যালি এমপ্লয়িরা নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পাওনা টাকা বা পণ্যের দাবিতে ইভ্যালিগুলোর অফিসগুলোয় গ্রাহকদের বিক্ষোভ করার পর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি এই ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ইভ্যালির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা আরও কিছুদিন সময় পেলে সব গ্রাহকের দায় মিটিয়ে ব্যবসার সংকট কাটিযে উঠতে পারবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সূত্রের পরিসংখ্যান বলছে, ইভ্যালির সম্পদ ও দায়দেনার বিপুল ব্যবধান কোনোভাবেই ঘুচানোর সম্ভাবনা নেই। বরং আরও বেশি দায় তৈরি হয়ে গ্রাহক ভোগান্তিই বাড়বে। তাহলে কোন পথে দেশের আলোচিত এই ই-কমার্স প্ল্যাটফরম?

ইভ্যালির শত শত গ্রাহক তাদের বিনিয়োগ ফেরত পেতে পারেন কীভাবে সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকরা দুটি উপায়ে এগোতে পারেন। প্রথমটি হচ্ছে ফৌজদারি মামলা দ্বিতীয়টি দেওয়ানি মামলা। তবে এই দুই পদক্ষেপে টাকা ফেরত পাওয়া দীর্ঘসময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) পক্ষ থেকে গত মাসে ইভ্যালিকে নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশের জবাবে তিন মাস সময় চেয়ে নেয় ইভ্যালি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু এখানে অনেক মানুষের স্বার্থ জড়িত, সরকার চাইলে প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা পরিচালনা করতে পারে অথবা কোনো একটা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে পারে। বিষয়টি এখন আইনি পর্যায়ে রয়েছে। তবে সবার আগে এখন গ্রাহকদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সরকারের। তাই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পান। হয়তো তাদের কিছু টাকা এখনো ব্যাংকিং চ্যানেলে আছে, বিভিন্ন সম্পদ আছে। সেগুলোর সমন্বয় করে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এসব পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান বিবিসিকে বলছেন, ‘সরকার তো চাইলেই প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে না। আদালত আদেশ দিলে তখন সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু মামলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেখানে আদালত যদি আদেশ দেয়, তখন সরকার সেটি পালন করবে।’

হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে, সে নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, আদালত কী বলেন, সেটা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানিয়ে রাখা উচিত। তাহলে যদি গ্রাহকদের টাকা ফেরতের কোনো প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, তখন তাদের সেটা সুবিধা দেবে।

সাত থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিলেও তাদের পণ্য সরবরাহ করেনি ইভ্যালি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ব্যবসায়ীদের কাছে ইভ্যালির বকেয়া ২০৫ কোটি টাকার ওপরে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাদের কাছে বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের পাওনা রয়েছে ৫৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই লাখ সাত হাজার ক্রেতা পাবে ৩১১ কোটি টাকা। আর পণ্য সরবরাহকারী মার্চেন্টরা পায় ২০৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাকি ২৬ কোটি টাকা পায় অন্য খাতের গ্রাহক।

ইভ্যালির হিসাব অনুযায়ী, দায়ের বিপরীতে এর চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ১৪ মে পারিবারিক কোম্পানি হিসেবে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নেয় ইভ্যালি ডটকম লিমিটেড। আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
%d bloggers like this: