• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:০৯ অপরাহ্ন

আ.লীগ লবিস্ট নিয়োগ করেছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে: মোশাররফ

আমার কাগজ প্রতিবেদকঃ / ৪৩ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২২

বিরোধী দলে থাকাকালে আওয়ামী লীগ বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে তাদের নিয়োগ করা লবিস্টরা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন সাবেক এই মন্ত্রী।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেডআরএফ।

সরকারের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশ দাওয়াত পায়নি। কারণ তারা বহির্বিশ্ব সবাই জানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না সে দেশে মানবাধিকার থাকে না। তাই আওয়ামী লীগ আজ ১২ বছর ধরে গুম খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারের বৈশিষ্ট্য।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ভেবেছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে। এমনকি ২০০৪ সাল থেকে তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। তবুও তারা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছে। লবিস্টরাও ব্যর্থ হয়েছে। আজকে তাদের অপকর্মের কারণে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান ও কিছু কর্মকর্তার নামে স্যাংশন দিচ্ছে। তবুও তারা আমলে নিচ্ছে না।’

নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন নিয়ে সরকার আরেকটি নাটক শুরু করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং দেশের চলমান সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।’

জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নন, দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সব সেক্টরে অবদান রেখেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার জন্মবার্ষিকীতে জেডআরএফের আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। আমি বলবো- দেশের বিশেষ দুটি দিন। একটি ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে উই রিভোল্ট বলে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে অনেকেই জিয়াউর রহমানকে হিংসা করেন। তার নাম মুছে ফেলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই তারা করছেন না। যারা জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করেন না তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না। অন্যরা তো তখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ ইচ্ছা করলে ইতিহাস মুছে দিতে পারে না।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটি ঘটনা হলো ৭ নভেম্বর। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংস করেছিল। কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করেছিল। রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ হত্যা করে প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। তখন ক্যু আর পাল্টা ক্যু হচ্ছিল। তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব যে সংঘটিত হলো সেটা হলো ইতিহাসের আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট। তখন দেশের ক্ষমতার পাদপ্রদীপে আবির্ভূত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুদ্ধার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছেন। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাট চলছিল।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শহীদ জিয়া দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্র হত্যা করেছে আর বিএনপি তা বার বার পুনরুদ্ধার করেছে। এগুলো ইতিহাস। চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না। তেমনি আজকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দী।

২০১৮ সালের নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করে তারা সরকার গঠন করেছে। তারা বলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।’

দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, জেডআরএফের লক্ষ্যই হলো আর্তমানবতার সেবায় কাজ করা। ইতিমধ্যে করোনাকালে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা, চব্বিশ ঘণ্টা হটলাইনে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

প্রকৌশলী মাহবুব আলমের পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ