• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার কারণ ছিল আদর্শিক: হানিফ

প্রতিবেদকের নাম / ২৪ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ৭ মে, ২০২২

গাজীপুর প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে আদর্শিক কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন।

শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর হায়দরাবাদে আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ছিলেন একজন দক্ষ সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি খুব দ্রুত সময়ে শ্রমিকদের মাঝে জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যার কারণে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি শিক্ষক থেকে একজন শ্রমিক নেতা হয়ে মেহনতি মানুষের খুব কাছে যেতে পেরেছিলেন। ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক মিত্র তারা আমাদের এ স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। তারা বারবার চেষ্টা করেছিল আমাদের এ স্বাধীনতাকে পরাধীনতার শৃংখলায় আবব্ধ করার জন্য।

হানিফ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কথায় কথায় গণতন্ত্রের সবক দেন। আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডসহ অজস্র হত্যাকাণ্ডের দায় আপনাদের ঘাড়ে আছে। আহসান উল্লাহ মাস্টারের রক্তে আপনার নেত্রী খালেদা জিয়া ও আপনার নেতা তারেক রহমানের হাত রঞ্জিত আছে। এখান থেকে কোনোদিন মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। আপনি যতই মায়া কান্না কাঁদেন আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীর রক্তে আপনার নেত্রীর হাত রঞ্জিত। আপনার নেতার হাত রঞ্জিত। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এ বাংলার মাটিতে হয়েছে এবং আরো হবে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, প্রফেসর রুমানা আলী টুসি এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল, জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারউজ্জামান, সাবেক সচিব ও জাতীয় পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি এমএম নিয়াজ উদ্দিন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মহি উদ্দিন মহি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জামিল হাসান দুর্জয়সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

হানিফ মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে বলেন, আয়নায় নিজের নিজের চেহারা দেখুন। আপনার দুই শীর্ষ নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও এতিমের টাকা আত্মসাতের জন্য কারাগারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদন্যতা ও দয়ায় জেলখানার পরিবর্তে বাসায় আছেন। আরেকজন শীর্ষ নেতা তারেক রহমান দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে পলাতক। যে দলের দুই শীর্ষ নেতা কারাগারে ও বিদেশে পলাতক তাদের মুখে আইনের কথা, দুর্নীতি ও গণতন্ত্রের কথা মানায় না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৫-এর ঘাতকদের দোসর রাষ্ট্রক্ষমতায় আাসর পরই আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য চক্রান্ত করেছিল। আওয়ামী লীগের প্রায় তিন লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছিলেন। তখনই বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে খণ্ড বিখণ্ড করা হয়েছিল। তিনি এই অপশক্তির বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের কাছ থেকে সতর্ক থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ