• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

আমির হামজার নাম আসা কমিটির ব্যর্থতা : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২৪ শেয়ার
প্রকাশিত : বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করতে আমির হামজা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, এবছর তাকে মনোনীত করা এ সংক্রান্ত কমিটি ও তার নিজের ব্যর্থতা।

বুধবার দুপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা চূড়ান্ত করা পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ আহ্বায়ক বলছেন, এটি তার নিজের ব্যক্তিগত এবং কমিটির যৌথ ব্যর্থতা।

তবে আমির হামজার বিষয়টি সামনে আনার জন্য সাংবাদিকদের প্রসংশা করেছেন মন্ত্রী।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যে কোনো শক্তির চেয়ে কলমের শক্তি বেশি। এটা আপনারা প্রমাণ করেছেন। আপনাদের লেখনির মধ্য দিয়ে সত্য প্রকাশ হয়েছে। আমরা ভুল করলে ভুল সংশোধন করি। ভুল হতে পারে, মানুষ হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নেই। তবে আমাদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

গত ১৫ মার্চ ২০২২ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য মো. আমির হামজাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে মনোনীত করা হয়।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় ওঠে। প্রশ্ন উঠে- বাংলা সাহিত্যে আমির হামজার ভূমিকা নিয়ে। এরই মধ্যে একটি খুনের মামলায় আমির হামজার সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়, যা তার মনোনীত হওয়াকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমির হামজার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এক পর্যায়ে তার পুরস্কার বাতিল করে সরকার।

আমির হামজাকে নিয়ে অনেক ‘ভুল তথ্য’ কমিটির কাছে জমা পড়েছিল জানিয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, অনেক ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সমস্ত সত্য গোপন করা হয়েছিল। কারা ভুল তথ্য দিয়েছেন খতিয়ে দেখবো। কমিটির ফোরামে এটা আলোচনা হবে। আমাদের যেটা ভুল হয়েছে সেটা সংশোধন করেছি। আমরা কেউ চাইব না বারবার ভুল করতে।

স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক আরও বলেন, কমিটির দায়িত্ব পালনে নিশ্চয়ই ভুলত্রুটি হয়েছে। নইলে এ ভুল হলো কেন? এটা যেমন আমার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা এবং তেমনই কমিটিরও যৌথ ব্যর্থতা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা ভুল তথ্য দিয়েছেন, তারাও এটার সঙ্গে জড়িত। তারা আমাদের বিভ্রান্ত করেছেন। যারা বিভ্রান্ত করেছেন, তাদের শাস্তি হবে। যেহেতু একটি কমিটি রয়েছে, সেহেতু কমিটিই বৈঠক করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

আমির হামজার নাম বাদ দেওয়ার পর এবার আর সাহিত্যে কাউকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। এখন ৯জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় এ পুরস্কার দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ