• রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

আমরা মেরুদণ্ড শক্ত রাখার চেষ্টা করব: সিইসি আউয়াল

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২১ শেয়ার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

‘মেরুদণ্ড বাঁকা বা নতজানু হয়ে নয়, মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি একথা জানান।

এদিন দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ইসির সঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্য সংলাপের সময় নির্ধারিত ছিল। দলটির ১০ জন প্রতিনিধিকে এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। সংলাপ দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে সাড়ে চারটায় শেষ হয়। এদিন বিকাল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে সংলাপ শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও দলটি অংশ নেয়নি। এর আগে সকালে সংলাপে অংশ নেয় জাকের পার্টি। এদিন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি অংশ নেয়নি।

সংলাপে বসে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আগের সিইসির মতো আপনাকেও আমি কদিন যাবৎ দেখছি, আপনি কথাবার্তায় ভাসছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন নষ্ট হবে, গণতন্ত্র নষ্ট হবে, এই ধরনের কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা বলব, এখানে বিএনপি কিছু নয়, আওয়ামী লীগও কিছু নয়। এখানে সবকিছু হচ্ছে জনগণ এবং দেশের ভোটার। যদি ৬৫-৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যায় এবং ভোট দেয়, তাহলে আপনার চেয়ে চমৎকার নির্বাচন কমিশন আর হতে পারে না। সেজন্য নির্বিবাধে ভোটারদের ভোটে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যেটা যথার্থ বলেছেন, মানুষের উৎসাহ কমে গেছে। সেটা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ত্যাগের ইসির দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গ তোলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ক্ষমতা থাকলে কেন নির্দেশনা মানাতে পারলেন না। আর ক্ষমতা না থাকলে তাকে সেই নির্দেশনা দিলেন কেন? উত্তরে সিইসি বলেন, তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে না বলে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। তার ব্যাখ্যাটা সে সময় দিয়েছি।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, অনেকে বলেন তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করব না। নির্বাচনের সময় সরকার কে? আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, আমি বলব তফসিল ঘোষণা করার পর সরকার কে? যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি প্রধানমন্ত্রী, যিনি রাষ্ট্রপতি তিনি রাষ্ট্রপতি। কিন্তু আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনই রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশনই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন কি পারবেন না, সেটা মেরুদণ্ডের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তার গেটের বাইরে বের হবেন কী হবেন না, সেটাও ইসিকে জিজ্ঞাসা করতে হবে।

উত্তরে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা মেরুদণ্ড বাঁকা করে না, নতজানু করে না, আমরা মেরুদণ্ড শক্ত রাখার চেষ্টা করব। কামিয়াব কতটুকু হব, সেটা আল্লাহপাক জানেন। আমরা সংলাপ শেষে আপনাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে সরকারকে এবং সবার কাছে পৌঁছে দেব।

সিইসি বলেন, সময় পাল্টে গেছে, এটাই বোধহয় বাস্তবতা। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনীতি থেকে গণতন্ত্রের বিস্তৃত হয়েছে। গণতন্ত্র নির্বাচনের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন পদ্ধতির জন্ম দিয়েছে। তাই আমি মনে করি যারা রাজনৈতিক নেতা আপনাদের যে দায়িত্ব, আপনাদের প্রতি আমাদের যে আস্থা, সম্মান এবং ভরসা, সেটা আমরা অক্ষুন্ন রাখতে চাই। আপনারা নেতৃত্ব দিয়ে যে পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, আমরা সামান্য নির্বাচন কমিশনার, আমাদের সেই সীমিত দায়িত্বটা ওই অর্থে সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে, সাহসিকতার সঙ্গে, আপনাদের যদি দোয়া থাকে, সহায়তা থাকে, সমর্থন থাকে, তাহলে আমরা পালনের চেষ্টা করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ