• শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

আনসার বিদ্রোহে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়

ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ / ৬১ শেয়ার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার, ৩০ শে নভেম্বর ১৯৯৪ সাল। কি ঘটেছিল আনসার বাহিনীতে সেদিন? ঘটনার প্রেক্ষিত ও ফলাফল কাহিনী নিম্নে সংক্ষিত আকারে তুলে ধরা হলো। দীর্ঘদিন ধরে আনসার বাহিনীর মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, চাকুরি স্থায়ীকরণ, রেশনের সুবিধা পাওয়া এ জাতীয় অপ্রাপ্তির বেদনা কষ্ট ও অসন্তোষের বহি:প্রকাশ ছিল আনসার বিদ্রোহ। তবে এটা কোন পরিকল্পিত ঘটনা ছিল না যা বিভিন্ন তদন্তে এবং অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এটাকে তৎকালীন বিএনপি-জামাতপন্থী সরকার তাদের ক্ষমতা থেকে উৎখাতের একটা নীলনক্সা হিসেবে অবহিত করে তার দায় চাপাতে ছেয়েছিল নিরীহ ও নির্দোষ আনসার বাহিনীর সদস্যদের উপর। আনসাররাশু ধুমাত্র জীবন-জীবিকার নিমিত্ত হিসেবে কিছু দাবি-দাওয়া পেশ করেছিল। কিন্তু আনসার বাহিনীর প্রতি তৎকালীন সরকারের অবজ্ঞা ও অবহেলা, বৈষম্য ও উদাসীনতা প্রতিফলিত হয়েছে বার বার। আনসার ভিডিপি বাহিনীর উন্নয়নের প্রতি সে সময়কার সরকারের মনোযোগই ছিলনা। বাহিনীর কর্মকর্তা পর্যায়ে অসন্তোষ তাদের ক্যারিয়ার প্রতিবন্ধকতাজনিত হতাশা, দূর্বলমানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সর্বোপরি নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রবল সংকট। এহেন সমস্যা ছিল কর্মকর্তা পর্যায়ে, আর সৈনিক পর্যায়ে ছিল তাদের বেতন-ভাতাদির বৈষম্য, চাকুরি স্থায়ীকরণ সমস্যা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চনা কষ্ট, প্রেষণে আসা মিলিটারী সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব এবং মিলিটারি ও সিভিল কর্মকর্তা পর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি যে আন্দোলনকে কিছুটা হলেও উসকে দেয়নি সে কথা বলা যাবেনা। তবে বাহিনীর উঁচু পর্যায়ের প্রেষণে আসা সামরিক কর্মকর্তাগণের স্বেচ্ছাচারি মনোভাব, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালার ব্যর্থতা এবং সর্বোপরি বাহিনীর অভ্যন্তরে ডিভাইড এবং রুলের অসুস্থ্য পরিবেশ জনিত কারণে কমান্ড নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তারই ফলশ্রুতিতে আনসার বিদ্রোহ। এই ঘটনার চারদিন ধরে এই অসুস্থ পরিবেশ আনসার বাহিনীতে বিরাজমান ছিল। প্রশাসনিক বা রাজনৈতিকভাবে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি প্রশমনের জন্য কোন কার্যক্রম নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি ক্রমশ: অশান্ত হতে থাকে, একপর্যায়ে ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তবে তা শুধু সড়ক অবরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কোন প্রকার নাশকতা বা ভাংচুরের ঘটনা সংঘটিত হয়নি। ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরানিরস্ত্রে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে ছিল। হঠাৎ করে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন গুজব ও ভিত্তিহীন খবরের আলোকে ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৪ যৌথবাহিনী নিরস্ত্র আনসার বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অপারেশনের নামে কতিপয় আনসার সদস্যের হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিতে সাথে সাথে আনসার একাডেমির অভ্যন্তরে অফিস-আদালত, বাসা-বাড়িতে বাস করা ১৭ জন কর্মকর্তাসহ আড়াই লক্ষাধিক আনসার-ভিডিপি সদস্যদের আসামী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনের ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগে। কর্মকর্তারাও সে অভিযোগ থেকে রেহাই পাইনি। তাদেরকে সাময়িক বিভিন্ন প্রকার আইনী হেনস্তা যেমন-জেলে আটক, মামলা ইত্যাদির শিকার হতে হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সকল ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্তে¡ও তাদেরকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা হিসেবে আনসার বাহিনীর উপর যৌথবাহিনীর অপারেশনকে দমননীতি বলে আখ্যা দিয়ে আনসারদের পক্ষে সহমর্মিতামূলক বিবৃতি প্রদান করেছিলেন। অধিকন্তু তিনি তার বিবৃতিতে আনসার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি এহেন আচরণকে নিন্দাও জানিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরীব আনসার সদস্যগণের প্রতি অবিচার হয়েছে, অমানবিক আচরণ হয়েছে মর্মে বিবৃতি প্রদান করায় তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টিকে বিরূপ ও কটাক্ষ মন্তব্য করে নেতিবাচক দৃষ্টিতে অন্যায়ভাবে প্রায় আড়াই হাজার গরীব আনসার সদস্যদের চাকুরিচ্যুত করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সিভিল আইন পুলিশ ফোর্সের উপর প্রযোজ্য, একই আইনে আনসার ফোর্সের সদস্যগণও পরিচালিত। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ বাহিনীর সদস্য বা কর্মীরা যখন তাদের পে-স্কেল সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কর্মবিরতিসহ আন্দোলনমুখী হন, তখন তাদের দাবির প্রতি নমনীয় ও সহিষ্ণু মনোভাব দেখিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় এবং সন্তোষজন সমাধানও প্রদান করা হয়। অন্যদিকে আনসার বাহিনীর সদস্যগণের একই রকমের দাবিকে অযৌক্তিক, ষড়যন্ত্রমূলক এবং রাষ্ট্রদ্রোহ ইত্যাদি অভিধায়ে আখ্যায়িত করে ফোর্সের শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে আনসারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন-যা একান্তই পক্ষপাতমূলক, বৈরি ও বিমাতাসুলভ। অবশেষে ২ আগস্ট ২০২২ চাকুরিচ্যুত আনসারদের চাকুরিতে পুনর্বহাল বিষয়ে মাননীয় সুপ্রিমকোর্ট থেকেএকটি রায় ঘোষিত হয় যা স্মরণকালের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও উল্লেখযোগ্য রায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এতদ্সঙ্গে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদন নিম্নে তুলে ধরা হলো-যার শিরোনাম ও বিবরণ নিম্নরূপ:
আনসার বিদ্রোহ : তেইশ শতাধিক সদস্যদের চাকরি পুনর্বহাল প্রশ্নে আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি
“ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২২ (বাসস) : ১৯৯৪ সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়াদের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল প্রশ্নে আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন। তবে রায় কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। আইনজীবিরা জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে পেলে পর্যবেক্ষণগুলো জানা যাবে। আবেদনকারীদের পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সিনিয়র এডভোকেট মো. সালাহ উদ্দীন দোলন ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। অন্যদিকে আনসার ভিডিপি মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এর আগে গত ১৬ জুন প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া প্রায় ২ হাজার ৩৬৩ জন রিটকারীর মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা রয়েছে তাদের চাকরিতেপুনর্বহাল বিষয়ে রায়ের জন্য আজ ২ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। যা পরবর্তীকালে বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ২ হাজার ৬৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কয়েকজনকে চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও বাকি ২ হাজার ৪৯৬ আনসার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে পৃথক সাতটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এরমধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযুক্তরা বিচারে খালাস পান। এ অবস্থায় তারা চাকরি ফিরে পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। এ কারণে প্রথমে ২৮৯ জন ও পরে ১ হাজার ৪৪৭ জন চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরবর্তীকালে ৬৪৭ জন পৃথক দুটি রিট করেন। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ২৮৯ জন এবং ওই বছরের ১০ জুলাই ১ হাজার ৪৪৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬৭৪ জন নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ের পর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর সংঘটিত আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত আনসারদেরকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে যাদের শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তারাই চাকরি ফেরত পাবেন। কিন্তু যাদের সক্ষমতা নেই তারা যতদিন চাকরিতে ছিলেন তাদের ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশ রায় পরবর্তী সময়ে তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এরপর আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি শেষ করে আজ আপিলসমূহ নিস্পত্তি করলো সর্বোচ্চ আদালত”
উপরে বাসস পরিবেশিত প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবৃত ও রায়ের সংক্ষিপ্ত সার অনুযায়ী চাকুরিচ্যুত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যগণ চাকরি ফিরে পাবে এটাই আশা করা যাচ্ছে এবং প্রতীয়মান হচ্ছে।কিন্তু বিচারিক এই রায়কে হয়তো পুন: চ্যালেঞ্জ করে বঞ্চিতদের বেদনা বাড়ানো বা আশাহত করার কোন ক‚টচাল বা খারাপ কোন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে না। কেননা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দেয়া এই রায়কে মেনে নিয়ে এবং রায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চাকুরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের চাকরিকালীন ন্যায্য পাওনা যেমন-পেনশন, আনুতোষিক ইত্যাদি সরকারি সুবিধার আওতায় নিয়ে সন্তোষজনক সমাধানই কাম্য। এক্ষেত্রে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের পর্যবেক্ষণসমূহের আইনী ভিত্তিগুলোকে প্রশাসনিক ও নির্বাহী আদেশে রূপান্তরের ব্যবস্থা ও পদেক্ষেপগ্রহণ যৌক্তিক হতে পারে। অন্যথায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক রায়কে অসম্মান প্রদর্শন করা হবে-যা সুশাসন ও আইনের শাসনের বিষয়ে জনমনে সংশয়, সন্দেহ ও বিভিন্ন প্রশ্নের উদয় হবে।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১৯৯৪ সালে সংগঠিত আনসার বিদ্রোহ প্রকৃত অর্থে কোনো আনসার বিদ্রোহ ছিল না। তাকে আনসার অসন্তোষ বলাই সমীচীন। কেননা, সে সময়ে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনসার বাহিনীর বেতন, রেশন ও কল্যাণমূলক ক্ষেত্রে যে প্রকট বৈষম্য ছিল তা দূরীকরণের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিভাগীয় ব্যবস্থায় ২৫০০ আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ওই সময়ে ১০০-১৫০ জন সদস্য টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যারিকেড দেয় অথচ তার দায় নিতে হয় নিরপরাধ ২৫০০ সদস্যকে। কে রাখে তাদের খবর? তারা অনেকেই আজ চাকরি হারিয়ে পথে বসেছে, সংসার ভেঙ্গেছে, সংসার বিসর্জন দিয়ে কেউ কেউ আত্মাহুতিও দিয়েছেন, কেউবা দিনমজুর ও রিকশাচালক হিসেবে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করেছেন। অবাক হওয়ার বিষয় এই যে, কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেউ কেউ এটাকে নিছক মানবতার অপমান বলে অভিহিত করে থাকেন। নিরপরাধ শান্তিপ্রিয় নিরীহ আনসারদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অপারেশনের যৌক্তিকতা ছিল না। আনসাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল মর্মে দোষারোপ করা হয়। আদতে অস্ত্রাগার ছিল সংরক্ষিত, ভেতরে ব্যারাকে ছেলেমেয়েদের অবস্থান ছিল পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সহিত। বিদ্রোহে মানহানি, সম্মানহানি, অশ্লীলতা ও অনেক কিছুই ঘটে থাকে কিন্তু আনসার বিদ্রোহে সেরকম কোন কিছুই ঘটেনি। তবে এটাকে বড় করে ফলাও করা হয়েছিল বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে। যাই হোক, সে সময়ের নীতিনির্ধারকরা সচেতন হলে এহেন কোনো দুর্ঘটনা ঘটতো না। অন্ততঃপক্ষে রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মোকাবিলা করা নেহায়েত হঠকারিতা ও বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে হয়।
পরিশেষে এ কথা বলা যায় যে, চাওয়া-পাওয়ার এ দাবি প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে ঢাকা পড়েছিল। নহে দ্রোহ, নহে আগুন, তবুও নাম তার আনসার বিদ্রোহ। প্রকৃতপক্ষে বিক্ষোভ ও অসন্তোষ থেকে আনসার বিদ্রোহ। কিন্তু এ বিদ্রোহ দমনে তৎকালীন বিএনপি সরকার আলোচনার কোন উদ্যোগ না নিয়ে বিডিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে বর্বরোচিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়। অভিযানে সরকারিভাবে চার আনসার সদস্য নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হওয়ার কথা বলা হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের মতে শতাধিক আনসার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। অন্তত দুই শতাধিক গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। পঙ্গুত্ববরণ করেন অনেকে। আড়াই হাজারের বেশি আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও চাকরিচ্যুত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে অবশেষে আনসার বিদ্রেহের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেল তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আনসার বিদ্রোহে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, কলামিস্ট ও গবেষক।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ