• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

আমার কাগজ ডেস্ক: / ২৪ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

 

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। আর্থ্রাইটিস বর্তমানে অত্যন্ত পরিচিত একটি অসুখ। জীবনযাত্রার সঙ্গে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছে এই রোগ। সমাজের আর্থ-সামাজিক বোঝা হিসেবে এই রোগ দিন-দিন বাড়ছে।

আর্থ্রাইটিসের আক্ষরিক অর্থ হল এটি এমন একটি অসুখ, যেখানে শরীরের সব জয়েন্টগুলোতেই যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি লক্ষ করা যায়। তবে এই রোগ নিয়েও রয়েছে কিছু কুসংস্কার। রোগ সম্পর্কে অসচেতনতা ও অজ্ঞতার উপর নির্ভর করে মানুষ নানারকম ধারণায় বশবর্তী হয়ে পড়ে। আর সেই ধারণাগুলি কাটিয়ে সচেতনতা বিস্তার করতেই সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাত নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগ নয়, এটি বেশ কয়েকটি সমপর্যায়ভুক্ত রোগের সমষ্টির বহির্প্রকাশ মাত্র। তবে সচরাচর অ্যানক্লোইজিং স্পনডিলাইটিস, গাউট, লুপাস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস মতো সমস্যাগুলিই বেশির ভাগ মানুষের কাছে পরিচিত। কিন্তু এর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত। যা সংখ্যায় প্রায় একশো ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অনেক নতুন ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। বাতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে কিছু গেম-চেঞ্জার। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এবং পর্যবেক্ষণের অধীনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে, বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক এবং স্টেরয়েড ব্যবহারের সঙ্গে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ চালু হলে এড়ানো যায় ঠিকই।

আর্থ্রাইটিস সম্পর্কিত কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা –

বয়স্কদের আর্থ্রাইটিস হয়

সত্য: বয়স্কদের মধ্যে আর্থ্রাইটিস বেশি দেখা যায় বটে, কিন্তু এটি যেকোনও বয়সে হতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ২০-৪০ বছর বয়সেই দেখা যায়।

জয়েন্টে ব্যথা মানেই আর্থ্রাইটিস

সত্য: সমস্ত জয়েন্টের ব্যথা বাত নয়, এবং সমস্ত জয়েন্টের অস্বস্তি মানেই সেটা আসন্ন আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নয়। টেন্ডিনাইটিস, বার্সাইটিস, ইউরিক অ্যাসিড এবং চোট আঘাত সহ জয়েন্টগুলোতে এবং আশেপাশে ব্যথার অনেক সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

বাতের রোগীদের ব্যায়াম করা উচিত নয়

সত্য: ব্যায়াম সাধারণত এমন কোন ক্রিয়াকলাপ নয় যা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলতে হয়। তবে জয়েন্টে খুব চাপ পড়বে এমন ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন হেভি ওয়েট ট্রেনিং, দৌড়। বদলে সাইক্লিং, সাঁতার, নূন্যতম ওজন নিয়ে হালকা কসরত, স্ট্রেচিং অত্যন্ত উপকারী। তাই চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং সার্টিফায়েড জিম ট্রেনারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করুন।

আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের ব্যথা কম থাকে। শরীরে শক্তি বেশি থাকে, ঘুম ভালো হয় এবং প্রতিদিন কাজে মন বসে। নিতম্ব এবং হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিসের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ব্যায়াম হওয়া উচিত।

আর্থ্রাইটিস আগে থেকে আটকানো যায় না

সত্য: আর্থ্রাইটিসের প্রতিটি ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ বয়স বাড়ার মতো কিছু ঝুঁকি পরিবর্তনযোগ্য নয়। তবে আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত রোধ করতে বা এর বৃদ্ধি ধীর করতে নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণগুলি দূর করতে বা কমিয়ে আনতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন আছে তাদের হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

এছাড়া পুষ্টিকর খাবার খান। নিয়মিত ওয়েট ট্রেনিং করলে পেশির পাশাপাশি জয়েন্টও শক্তিশালী হয়।

আর্থ্রাইটিস একবার হলে আর কমবে না

সত্য: দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা না এলেও অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চিকিৎসক কোনও ওষুধ দিলে নিয়মিত খান। তাছাড়া তার পরামর্শ মতো ব্যায়াম, খাওয়া দাওয়া করুন। ভাল করে ঘুমোন। ফ্যাশানের জুতো বা চপ্পলের বদলে ভালো মানের রানিং শুতে টাকা খরচ করুন। সেটিই বেশি ব্যবহার করুন।

পূর্ণিমায় আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ে

সত্য: এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল, দুটির মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
%d bloggers like this: