আমার কাগজ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেলেন আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাবের মেম্বার, ঢাকা ক্লাবের মেম্বার। এছাড়াও এপিবিএন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকার সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন।
রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমবার চাকরিচ্যুত, পরের বার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলের শিকার হন আলী হোসেন ফকির। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করতেন।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমযাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর গত বছরের ১১ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি (দ্বিতীয় গ্রেড) পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি।
আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। একটি হলের পদধারি নেতা ছিলেন। ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশের এএসপি হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম আমলে আলী হোসেন ফকির আওয়ামী রোষানলের শিকার হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান। কর্মজীবনে তিনি চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এসপি হিসেবে একাধিক জেলায় পদায়ন পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি ছিলেন। এরপর তিনি জাতিসঙ্ঘ মিশনে যান। সেখানেও তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে পুরস্কৃত হন। জাতিসঙ্ঘ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহী ডিআইজি অফিসে এসপি হিসেবে সংযুক্ত করা হয় তাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।
